সোমবার, ২৫ মে, ২০১৫

প্রকাশক, মুফতী, মুফিদ। হাদীসের আলোকে মসজিদে ঘুমানোর শরয়ী বিধান ---------------------------------- মাওলানা তাহমীদুল মাওলা এক ভাই আমাকে কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এবং সাথে একটি প্রবন্ধের ফটোকপি পাঠিয়ে ছিলেন। যাতে লেখা হয়েছে, তাবলীগ জামাতের মসজিদে রাত্রি যাপন হারাম, তারা মসজিদে বায়ূত্যাগ করে যা গুনাহের কাজ, হানাফী মাযহাবে একদিন এক রাতের কম কোন ইতিকাফ নেই, রোযা না রেখে ইতিকাফ হয় না ইত্যাদি। অকথ্য ভাষায় অভদ্রতার চরম সীমা অতিক্রম করে তিনি লিখেছেন। তবে এখানে আমি তার পরিচয় উল্লেখ করিনি। কারণ, ব্যক্তির পরিচয়ের মধ্যে কোন কল্যান নেই । বিধান জানাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমি প্রশ্নকারীকে বিষয়গুলো মুখে বললাম। তখন তিনি আমাকে সেগুলো লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ বিষয়ের দলিল প্রমাণ হাদীস ও ফিকহের কিতাবে ভরপুর। যা একত্র করতে চাইলে রীতিমত একটি পুস্তকে হয়ে যাবে। কিন্তু তখন আমি চরম ব্যস্ততার মাঝে তাড়াহুড়ো করে কিছু কথা লিখে দিয়েছিলাম। বিষয়টি যেহেতু অনেকেই জানতে চায়, তাই আমার ইচ্ছা হল, আপাতত এতটুকুই পাঠকের হাতে তুলে দেই। ১. মসজিদে ঘুমানোর হুকুম কী? ২. নফল ইতিকাফের সর্বনিম্ন পরিমাণ কতটুকু? নফল ই‘তিকাফের জন্য কি রোজা রাখা শর্ত? ৩. মসজিদে বাতকর্ম (বায়ু ত্যাগ) করার বিধান কী? উত্তর (১) মসজিদে ঘুমানো সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস- ইমাম বুখারী রহ. (মৃ.২৫৬ হি.) সহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায় রেখেছেন, ﺑﺎﺏ ﻧَﻮْﻡِ ﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ‘মহিলাদের জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েয’। এ অধ্যায়ে দলীল হিসেবে বর্ণনা করেন, ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ “ ﺃَﻥَّ ﻭَﻟِﻴﺪَﺓً ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺳَﻮْﺩَﺍﺀَ ﻟِﺤَﻲٍّ ﻣِﻦْ … ﻓَﺠَﺎﺀَﺕْ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﺄَﺳْﻠَﻤَﺖْ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔُ ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻟَﻬَﺎ ﺧِﺒَﺎﺀٌ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺃَﻭْ ﺣِﻔْﺶٌ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻓَﻜَﺎﻧَﺖْ ﺗَﺄْﺗِﻴﻨِﻲ ﻓَﺘَﺤَﺪَّﺙُ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻓَﻼَ ﺗَﺠْﻠِﺲُ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﻣَﺠْﻠِﺴًﺎ ﺇِﻻَّ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻮِﺷَﺎﺡِ ﻣِﻦْ ﺗﻌَﺎﺟِﻴﺐِ ﺭَﺑِّﻨَﺎ … ﺃَﻻَ ﺇِﻧَّﻪُ ﻣِﻦْ ﺑَﻠْﺪَﺓِ ﺍﻟْﻜُﻔْﺮِ ﺃَﻧْﺠَﺎﻧِﻲ একটি বাঁদীর ঘটনা। ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন হযরত আয়শা রা.। তিনি বলেন মহিলাটি ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁর থাকার জন্য মসজিদে একটি তাবু খাটানো হল। সহীহ বুখারী হা. নং ৪৩৯ এ হাদীসে ব্যাখ্যায় ‘হানাফী’ ফকীহ ও মুহাদ্দিস আল্লামা আইনী রহ. বলেন, ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﺑﻄﺎﻝ ﻓﻴﻪ ﺃﻥ ﻣﻦ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﻣﺴﻜﻦ ﻭﻻ ﻣﻜﺎﻥ ﻣﺒﻴﺖ ﻳﺒﺎﺡ ﻟﻪ ﺍﻟﻤﺒﻴﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﺭﺟﻼ ﺃﻭ ﺍﻣﺮﺃﺓ ইবনে বত্তাল রহ. বলেছেন, এ হাদীস থেকে বুঝা যায় রাত যাপনের স্থান নেই এমন যে কোন নারী-পুরুষের জন্য মসজিদে থাকা জয়েয। (উমদাতুল কারী, বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ) অতঃপর ইমাম বুখারী আরেকটি অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন, ﺑَﺎﺏ ﻧَﻮْﻡِ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ অর্থাৎ ‘পুরুষদের জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েয’। এ অধ্যায়ে দলিল হিসেবে তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। ১. সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. নিজের সম্পর্কে বলেন, ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ” ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻨَﺎﻡُ ﻭَﻫُﻮَ ﺷَﺎﺏٌّ ﺃَﻋْﺰَﺏُ ﻟَﺎ ﺃَﻫْﻞَ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﻣَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ . ﻭﻟﻔﻆ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺷﻴﺒﺔ - ﻛﻨﺎ ﻭﻧﺤﻦ ﺷﺒﺎﺏ ﻧﺒﻴﺖ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﻧﻘﻴﻞ . ﻭﻫﻜﺬﺍ ﻟﻔﻆ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ . তিনি ছিলেন অবিবাহিত যুবক। স্ত্রী-পুত্র কেউ ছিল না। তখন তিনি মসজিদে নববীতেই (রাতে ও দিনে) ঘুমাতেন। (সহীহ বুখারী,) জামে তিরমিযী (তিরমিযী শরীফ) ও ইবনে আবীশাইবার বর্ণনায় বক্তব্যটি তুলে ধরা হয়েছে এভাবে, ‘আমারা একদল যুবক রাতে ও দিনে মসজিদে শয়ন করতাম’। এ হাদীসের ব্যাখ্যায় হাফেজ আইনী রহ. (মৃ.৮৫৫ হি.) বলেন, ﻭﻫﻮ ﺟﻮﺍﺯ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻟﻐﻴﺮ ﺍﻟﻐﺮﻳﺐ … এতে স্থানীয় লোকদের জন্যও (যারা মুসাফির নয়) মসজিদে ঘুমানো জায়েয বলে প্রমাণিত হয়। (উমদাতুল কারী) হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. (মৃ.৮৫২ হি.) বলেন, ﻗﻮﻟﻪ : “ ﺑﺎﺏ ﻧﻮﻡ ﺍﻟﺮﺟﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ” ﺃﻱ ﺟﻮﺍﺯ ﺫﻟﻚ، ﻭﻫﻮ ﻗﻮﻝ ﺍﻟﺠﻤﻬﻮﺭ ، অর্থাৎ পুরুষদের জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েয। এটাই অধিকাংশের মত। (ফাতহুল বারী) ২. হযরত সাহল ইবনে সা‘দ রা. বলেন, ” ﺟَﺎﺀَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑَﻴْﺖَ ﻓَﺎﻃِﻤَﺔَ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺠِﺪْ ﻋَﻠِﻴًّﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺃَﻳْﻦَ ﺍﺑْﻦُ ﻋَﻤِّﻚِ؟ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻛَﺎﻥَ ﺑَﻴْﻨِﻲ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻪُ ﺷَﻲْﺀٌ ﻓَﻐَﺎﺿَﺒَﻨِﻲ ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﻘِﻞْ ﻋِﻨْﺪِﻱ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟِﺈِﻧْﺴَﺎﻥٍ : ﺍﻧْﻈُﺮْ ﺃَﻳْﻦَ ﻫُﻮَ، ﻓَﺠَﺎﺀَ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻫُﻮَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺭَﺍﻗِﺪٌ، ﻓَﺠَﺎﺀَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻫُﻮَ ﻣُﻀْﻄَﺠِﻊٌ ﻗَﺪْ ﺳَﻘَﻂَ ﺭِﺩَﺍﺅُﻩُ ﻋَﻦْ ﺷِﻘِّﻪِ ﻭَﺃَﺻَﺎﺑَﻪُ ﺗُﺮَﺍﺏٌ، ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﻤْﺴَﺤُﻪُ ﻋَﻨْﻪُ، ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ : ﻗُﻢْ ﺃَﺑَﺎ ﺗُﺮَﺍﺏٍ، ﻗُﻢْ ﺃَﺑَﺎ ﺗُﺮَﺍﺏٍ . একদিন রাসূলুল্লাহ সা. হযরত ফাতেমার ঘরে এসে আলীকে (রা.) পাননি। জিজ্ঞেস করলেন, আলী কোথায়? ফাতেমা বললেন, আমাদের দু’জনে মধ্যে কিছু রাগারাগি হয়েছে। ফলে তিনি রাগ করে এখানে বাইরে চলে গেছেন । রাসূলুল্লাহ সা. একজনকে বললেন, তাকে একটু খুঁজে দেখ কোথায়। লোকটি এসে জানাল, আলী মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। রাসূলুল্লাহ সা. এসে দেখলেন আলী শুয়ে আছেন। শরীর এক পাশ থেকে চাদর পড়ে গেছে। আর গায়ে ধুলো-বালি লেগে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর গায়ের বালি ঝেঁড়ে দিচ্ছেন আর বলছেন ‘আবু তোরাব উঠ উঠ। (সহীহ বুখারী) এ হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা আইনী রহ. (মৃ.৮৫৫ হি.) বলেন, ﻓﻴﻪ ﺇﺑﺎﺣﺔ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻟﻐﻴﺮ ﺍﻟﻔﻘﺮﺍﺀ ﻭﻟﻐﻴﺮ ﺍﻟﻐﺮﻳﺐ ﻭﻛﺬﺍ ﺍﻟﻘﻴﻠﻮﻟﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺈﻥ ﻋﻠﻴﺎ ﻟﻢ ﻳﻘﻞ ﻋﻨﺪ ﻓﺎﻃﻤﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﺎ ﻭﻧﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻷﺑﻲ ﻧﻌﻴﻢ ﻣﻦ ﺣﺪﻳﺚ ﺑﺸﺮ ﺑﻦ ﺟﺒﻠﺔ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻋﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺩﻳﻨﺎﺭ ﻋﻦ ﻧﺎﻓﻊ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﺑﻦ ﻣﻄﻌﻢ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻳﺮﻓﻌﻪ ﻻ ﺗﻤﻨﻌﻮﺍ ﺍﻟﻘﺎﺋﻠﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻣﻘﻴﻤﺎ ﻭﻻ ﺿﻴﻔﺎ . এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়, ঘর-বাড়িহীন দরিদ্র ও ভীনদেশী মুসাফির ছাড়া স্থানীয়দের জন্যও মসজিদে ঘুমানো জায়েয। অনুরূপ মসজিদে কাইলূলা (দিবসকালীন বিশ্রাম) করাও জায়েয। কারণ (জায়েয বলেই) হযরত আলী (রা.) ফাতেমা রা. এর ঘরে বিশ্রাম না করে মসজিদে গিয়ে ঘুমালেন। ইমাম আবু নু‘আইম ইসফাহানী রহ. ‘কিতাবুল মাসাজিদে’ হযরত জুবাইর ইবনে মুতইম রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, মেহমান বা স্থানীয় যে কেউ মসজিদে বিশ্রাম নিতে আসলে তাকে বাধা দিও না। (উমদাতুল কারী) ৩. তৃতীয় বর্ণনায় আহলে ছুফফার বিবরণ তুলে ধরেছেন। তাঁরা মসজিদে নববীতেই রাত দিন থাকতেন। এ অধ্যায়ে উল্লিখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে রজব রহ. (মৃ.৭৯৫ হি.) বলেন, ﻭﻟﻴﺲ ﺍﻟﻤﻘﺼﻮﺩ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺒﺎﺏ ﺇﻻ ﻧﻮﻣﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﻻ ﺷﻚ ﻓﻲ ﺃﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺼﻔﺔ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻨﺎﻣﻮﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ، ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻬﻢ ﻣﺄﻭﻯ ﺑﺎﻟﻠﻴﻞ ﻭﺍﻟﻨﻬﺎﺭ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﺼﻔﺔ ، এখানে এ হাদীস বর্ণনা করার উদ্দেশ্য আহলে ছুফফার মসজিদে ঘুমানোর কথা তুলে ধরা। সন্দেহ নেই আহলে ছুফফা মসজিদেই ঘুমাতেন। রাত দিনে তাদের ঘুমানোর আর কোন স্থান ছিল না। ইবনে সা‘দ রহ. (মৃ.২৩০ হি.) বর্ণনা করেন, ﻋﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻗﺴﻴﻂ ، ﻗﺎﻝ : ﻛﺎﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺼﻔﺔ ﻧﺎﺳﺎ ﻓﻘﺮﺍﺀ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻣﻨﺎﺯﻝ ﻟﻬﻢ ، ﻓﻜﺎﻧﻮﺍ ﻳﻨﺎﻣﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﻳﻈﻠﻮﻥ ﻓﻴﻪ ، ﻣﺎ ﻟﻬﻢ ﻣﺄﻭﻯ ﻏﻴﺮﻩ ، .. ﺫﻛﺮﻩ ﺍﺑﻦ ﺭﺟﺐ ﻓﻰ ﻓﺘﺢ ﺍﻟﺒﺎﺭﻯ ﻟﻪ আহলে ছুফফা ছিলেন রাসূলের একদল দরিদ্র সাহাবী। তাদের কোন বাড়ি ঘর ছিল না। তাঁরা মসজিদেই ঘুমাতেন, মসজিদেই থাকতেন। এছাড়া তাদের আর কোন আশ্রয় ছিল না। (তাবাকাতুল কুবরা, ইবনে সাদ, ফাতহুল বারী, ইবনে রাজব) এ সংক্রান্ত আরো কয়েকটি হাদীস ৪. সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ আনসারী রা. বলেন, ” ﺃَﻧَّﻪُ ﺭَﺃَﻯ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣُﺴْﺘَﻠْﻘِﻴًﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﻭَﺍﺿِﻌًﺎ ﺇِﺣْﺪَﻯ ﺭِﺟْﻠَﻴْﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄُﺧْﺮَﻯ আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখেছি, মসজিদে এক পা অপর পায়ের উপর রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। (সহীহ বুখারী) ৫. হযরত আসমা বিনতে ইয়াযীদ বলেন, ﺃَﻥَّ ﺃَﺑَﺎ ﺫَﺭٍّ ﺍﻟْﻐِﻔَﺎﺭِﻱَّ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺨْﺪُﻡُ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻓَﺮَﻍَ ﻣِﻦْ ﺧِﺪْﻣَﺘِﻪِ، ﺁﻭَﻯ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ، ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻫُﻮَ ﺑَﻴْﺘُﻪُ، ﻳَﻀْﻄَﺠِﻊُ ﻓِﻴﻪِ، ﻓَﺪَﺧَﻞَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪَ ﻟَﻴْﻠَﺔً، ﻓَﻮَﺟَﺪَ ﺃَﺑَﺎ ﺫَﺭٍّ ﻧَﺎﺋِﻤًﺎ ﻣُﻨْﺠَﺪِﻟًﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ، ﻓَﻨَﻜَﺘَﻪُ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺑِﺮِﺟْﻠِﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﺍﺳْﺘَﻮَﻯ ﺟَﺎﻟِﺴًﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ :” ﺃَﻟَﺎ ﺃَﺭَﺍﻙَ ﻧَﺎﺋِﻤًﺎ؟ “ ، ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺫَﺭٍّ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻓَﺄَﻳْﻦَ ﺃَﻧَﺎﻡُ، ﻫَﻞْ ﻟِﻲ ﻣِﻦْ ﺑَﻴْﺖٍ ﻏَﻴْﺮُﻩُ؟، . ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﺠﻤﻊ : ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻭﺭﻭﻯ ﺑﻌﻀﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ ﻭﻓﻴﻪ ﺷﻬﺮ ﺑﻦ ﺣﻮﺷﺐ ﻭﻓﻴﻪ ﻛﻼﻡ ﻭﻗﺪ ﻭﺛﻖ হযরত আবুযর রা. রাসূলুল্লাহ সা. -এর খেদমত করতেন। ফারেগ হলেই মসজিদে চলে যেতেন। মসজিদই ছিল তাঁর ঘর। এখানেই ঘুমাতেন। একদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দেখলেন, আবুজর মসজিদে শুয়ে আছেন। তিনি তাকে পা দিয়ে স্পর্শ করলেন। আবুযর রা. উঠে বসলেন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এখানে ঘুমিয়ে কেন? আবুযর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোথায় ঘুমাব আর ?! এ ছাড়াকি আমার আর কোন ঘর আছে? (মুসনাদে আহমদ হা.২৬৯২৮ মাজমাউয যাওয়াইদ হা. ২০২৩) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺪﻡ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺈﺫﺍ ﻓﺮﻍ ﻣﻦ ﺧﺪﻣﺘﻪ ﺃﺗﻰ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﺎﺿﻄﺠﻊ ﻓﻴﻪ . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻷﻭﺳﻂ ﻭﻓﻴﻪ ﺷﻬﺮ ﻭﻓﻴﻪ ﻛﻼﻡ ﻭﻗﺪ ﻭﺛﻖ তিনি রাসূলুল্লাহ সা. -এর খেদমত করতেন। যখনই অবসর হতেন, মসজিদে এসে শুয়ে আরাম করতেন। (আলমুজামুল আওসাত, তাবারানী। মাজমাউয যাওয়াইদ হা. ২০২৪) মোট কথা হযরত আবু যর রা. এর থাকার মত কোন ঘরই ছিল না। তিনি সব সময়ই মসজিদে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিনই তাঁকে মসজিদে ঘুমাতে নিষেধ করেননি। খলীফা হযরত উমর ও হযরত উসমান রা. বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় রয়েছে, সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ আনসারী রা. বলেন, ” ﺃَﻧَّﻪُ ﺭَﺃَﻯ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣُﺴْﺘَﻠْﻘِﻴًﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﻭَﺍﺿِﻌًﺎ ﺇِﺣْﺪَﻯ ﺭِﺟْﻠَﻴْﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺄُﺧْﺮَﻯ ” ﻭَﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﺷِﻬَﺎﺏٍ، ﻋَﻦْ ﺳَﻌِﻴﺪِ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻤُﺴَﻴِّﺐِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﻋُﻤَﺮُ ﻭَﻋُﺜْﻤَﺎﻥُ ﻳَﻔْﻌَﻠَﺎﻥِ ﺫَﻟِﻚَ . আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, মসজিদে এক পা অপর পায়ের উপর রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। হযরত সায়ীদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন, হযরত উমর ও উসমান রা. ও এভাবে মসজিদে ঘুমাতেন। (সহীহ বুখারী) হযরত হাসান বছরী (মৃত. ১১০ হি.) রা. বলেন, ﻗﺎﻝ ﺭﺃﻳﺖ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﻋﻔﺎﻥ ﻧﺎﺋﻤﺎ ﻓﻴﻪ ﻟﻴﺲ ﺣﻮﻟﻪ ﺃﺣﺪ ﻭﻫﻮ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻗﺎﻝ ﻭﻗﺪ ﻧﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻠﻒ … আমি হযরত উসমান রা. কে দেখেছি মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। তাঁর পাশে কেউ নেই। অথচ তখন তিনি আমীরুল মুমিনীন। হযরত হাসান আরো বলেন, সাহাবা তাবেয়ীদের অনেকেই মসজিদে ঘুমাতেন। (তাবারী, উমদাতুল কারী) এ বিষয়ে মহান তাবেয়ীদের কয়েকজনের মতামত তুলে ধরছি ۱ . ﻋﻦ ﺍﻟﺤﺎﺭﺙ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﻗﺎﻝ ﺳﺄﻟﺖ ﺳﻠﻴﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﻳﺴﺎﺭ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﻘﺎﻝ ﻛﻴﻒ ﺗﺴﺄﻟﻮﻥ ﻋﻦ ﻫﺬﺍ ﻭﻗﺪ ﻛﺎﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺼﻔﺔ ﻳﻨﺎﻣﻮﻥ ﻓﻴﻪ ﻭﻳﺼﻠﻮﻥ ﻓﻴﻪ ১.হযরত হারেস ইবনে আব্দুর রহমান বলেন, হযরত সুলায়মান ইবনে ইয়াসারকে জিজ্ঞেস করলাম, মসজিদে ঘুমানোর বিধান কী? তিনি উত্তরে বললেন, তোমরা কেন এবিষয়ে প্রশ্ন কর? আহলে ছুফফাতো মসজিদেই থাকতেন, মসজিদেই নামাজ পড়তেন। অর্থাৎ মসজিদে ঘুমানো জায়েয। আহলে ছুফফার মসজিদে ঘুমানোটাই এর দলীল। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা.৮৯১১ ٢ . ﻋﻦ ﻳﻮﻧﺲ ﻗﺎﻝ ﺭﺃﻳﺖ ﺑﻦ ﺳﻴﺮﻳﻦ ﻳﻨﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ২.হযরত ইউনুস রহ. বলেন, আমি তাবেয়ী ইবনে সীরীনকে মসজিদে ঘুমাতে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা ) ٣ . ﻋﻦ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﻣﺴﺠﺪ ﻳﺼﻠﻲ ﻓﻴﻪ ﻭﻳﻨﺎﻡ ﻓﻴﻪ ৩.বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বছরী রহ. এর একটি মসজিদ ছিল। তিনি তাতে নামাজও পড়তেন, ঘুমাতেনও। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯১৩) ٤ . ﻋﻦ ﺑﻦ ﺟﺮﻳﺞ ﻗﺎﻝ ﻗﻠﺖ ﻟﻌﻄﺎﺀ ﺃﺗﻜﺮﻩ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻗﺎﻝ ﺑﻞ ﺃﺣﺒﻪ ৪.ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন, আমি হযরত আতা রা. কে জিজ্ঞেস করলাম, মসজিদে ঘুমানোকে কি আপনি অপছন্দ করেন? বললেন, না, বরং মসজিদে ঘুমানোকে আমি পছন্দ করি। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯১৭) ٥ . ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻤﺴﻴﺐ ﺇﻧﻪ ﺳﺌﻞ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻓﻘﺎﻝ ﺃﻳﻦ ﻛﺎﻥ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺼﻔﺔ ﻳﻌﻨﻲ ﻳﻨﺎﻣﻮﻥ ﻓﻴﻪ ৫.হযরত সায়ীদ ইবনুল মুসায়্যিবকে জিজ্ঞেস করা হল, মসজিদে ঘুমানো জায়েয আছে কী? তিনি উত্তরে বললেন, আহলে ছুফ্ফা কোথায় থাকতেন তাহলে? অর্থাৎ তারা মসজিদেই ঘুমাতেন। (সুতরাং মসজিদে ঘুমানো জায়েয এবং এটি সুস্পষ্ট) (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯২২) ٦ . ﻋﻦ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻧﺠﻴﺢ ﻗﺎﻝ ﻧﻤﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ﻓﺎﺣﺘﻠﻤﺖ ﻓﻴﻪ ﻓﺴﺄﻟﺖ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺫﻫﺐ ﻭﺍﻏﺘﺴﻞ ﻳﻌﻨﻲ ﻭﻟﻢ ﻳﻨﻬﻪ ৬.হযরত ইবনে আবী নাজীহ বলেন , আমি মসজিদে হারামে ঘুমিয়েছিলাম। তখন আমার স্বপ্নদোষ হল। তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে জুবাইর রহ. কে জিজ্ঞেস করলাম, কি করব? বলেন, গোসল করে আস। অর্থাৎ তিনি তাকে মসজিদে ঘুমাতে নিষেধ করেননি। (মুসান্নাফে ইবনে আবীশাইবা হা. ৪৯২৩ ) ۷ . ﻭﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺩﻳﻨﺎﺭ : ﻛﻨﺎ ﻧﺒﻴﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ . ৭.হযরত আমর ইবনে দীনার বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. এর খিলাফত কালে আমরা মসজিদেই রাত যাপন করতাম। (ফাতহুল বারী, ইবনে রজব।) সার কথা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়সাল্লাম, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর, হযরত উসমান, হযরত আলী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, হযরত আবুযর গিফারী রা. ও আহলে ছুফ্ফা সকলেই মসজিদে ঘুমিয়েছেন। তাই তাবেয়ী-তবে তাবেয়ীনের অনেকেই মসজিদে ঘুমিয়েছেন এবং নির্দ্বিধায় মসজিদে ঘুমানোকে জায়েয বলেছেন। ফলে প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ইমামগণ, আবু হানীফা, মালেক, শাফেয়ী ও আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. প্রয়োজনে মসজিদে ঘুমানোকে জায়েয বলেছেন। তবে ইমাম মালেক ও আহমদ রহ. বলেছেন, নিজের পৃথক ঘুমানোর জায়গা থাকা সত্ত্বেও মসজিদকে নিয়মিত ঘুমানোর জায়গা বানিয়ে নেয়া উচিত নয়। হাঁ ইবাদত ও নেক কাজের উদ্দেশ্যে সকল মাযহাবেই নির্দ্বিধায় মসজিদে ঘুমানো জায়েয। (দ্র. ফাতহুল বারী, ইবনে রজব, ই‘লামুস্-সাজিদ বিআহ্কামিল মাসাজিদ, মুহাম্মদ ইবনে আব্দিল্লাহ যারকাশী (মৃ.৭৯৪ হি.) পৃ. ৩০৫-৩০৭) হানাফী মাযহাব বদরুদ্দীন আইনী রহ. (মৃ. ৮৫৫ হি.) হানাফী মাযহাবের একজন উল্লেখযোগ্য মুহাদ্দিস ও ফকীহ। মসজিদে ঘুমানো জায়েয হওয়া সম্পর্কে তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তথাপি হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব ‘আলফাতাওয়াল হিন্দিয়া’য় (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী) উদ্ধৃত হয়েছে, ﻭَﻟَﺎ ﺑَﺄْﺱَ ﻟِﻠْﻐَﺮِﻳﺐِ ﻭَﻟِﺼَﺎﺣِﺐِ ﺍﻟﺪَّﺍﺭِ ﺃَﻥْ ﻳَﻨَﺎﻡَ ﻓﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﻓﻲ ﺍﻟﺼَّﺤِﻴﺢِ ﻣﻦ ﺍﻟْﻤَﺬْﻫَﺐِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺣْﺴَﻦُ ﺃَﻥْ ﻳَﺘَﻮَﺭَّﻉَ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﻨَﺎﻡُ ﻛَﺬَﺍ ﻓﻲ ﺧِﺰَﺍﻧَﺔِ ﺍﻟْﻔَﺘَﺎﻭَﻯ বিশুদ্ধ মত অনুসারে মুসাফির ও স্থানীয় উভয়ের জন্যই মসজিদে ঘুমানো জায়েয। তবে উত্তম হল (অবশ্য প্রয়োজন ছাড়া) না ঘুমানো। খিযানাতুল ফাতাওয়া। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী) তবে অপ্রয়োজনে ঘুমানো উচিত নয় উল্লেখ করে অনত্র বলেন, ﻭَﻳُﻜْﺮَﻩُ ﺍﻟﻨَّﻮْﻡُ ﻭَﺍﻟْﺄَﻛْﻞُ ﻓﻴﻪ ﻟِﻐَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻤُﻌْﺘَﻜِﻒِ ﻭﺇﺫﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺃَﻥْ ﻳَﻔْﻌَﻞَ ﺫﻟﻚ ﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻮِﻱَ ﺍﻟِﺎﻋْﺘِﻜَﺎﻑَ ﻓَﻴَﺪْﺧُﻞَ ﻓﻴﻪ ﻭَﻳَﺬْﻛُﺮَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺑِﻘَﺪْﺭِ ﻣﺎ ﻧَﻮَﻯ ﺃﻭ ﻳُﺼَﻠِّﻲَ ﺛُﻢَّ ﻳَﻔْﻌَﻞَ ﻣﺎ ﺷَﺎﺀَ ﻛَﺬَﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﺴِّﺮَﺍﺟِﻴَّﺔِ ই‘তিকাফের নিয়ত ছাড়া মসজিদে ঘুমানো ও খাওয়া-দাওয়া করা মাকরূহ (তবে এটি মাকরূহে তাহরীমী তথা হারাম নয়; বরং মাকরূহে তান্যীহী অর্থাৎ অপসন্দনীয় ও অনুচিত কাজ)। তাই যদি কেউ মসজিদে ঘুমাতে চায়, তাহলে তার উচিৎ ই‘তিকাফের নিয়তে মসজিদে প্রবেশ করে ইচ্ছানুসারে আল্লাহর যিকর অথবা নামায পড়ে নেবে। তার পর যা ইচ্ছা করবে। সিরাজিয়া। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী) ইমাম আলাউদ্দীন হাছ্কাফী রহ. (মৃ. ১০৮৮ হি.) এর বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ইবনে আবীদীন শামী রহ. (মৃ.১২৬০ হি.) তাঁর বিখ্যাত ফিকাহ গ্রন্থ “ফতুয়ায়ে শামীতে” লেখেন, ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ : ﻟﻜﻦ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻛﻤﺎﻝ ﻻ ﻳﻜﺮﻩ ﺍﻷﻛﻞ ﻭﺍﻟﺸﺮﺏ ﻭﺍﻟﻨﻮﻡ ﻓﻴﻪ ﻣﻄﻠﻘﺎ ﻭﻧﺤﻮﻩ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺠﺘﺒﻰ . ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺎﺑﺪﻳﻦ ﻓﻰ ﺷﺮﺣﻪ : ‏( ﻗﻮﻟﻪ ﻟﻜﻦ ﺇﻟﺦ ‏) ﺍﺳﺘﺪﺭﺍﻙ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻷﺷﺒﺎﻩ ﻭﻋﺒﺎﺭﺓ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻜﻤﺎﻝ ﻋﻦ ﺟﺎﻣﻊ ﺍﻹﺳﺒﻴﺠﺎﺑﻲ ﻟﻐﻴﺮ ﺍﻟﻤﻌﺘﻜﻒ ﺃﻥ ﻳﻨﺎﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻣﻘﻴﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺃﻭ ﻏﺮﻳﺒﺎ ﺃﻭ ﻣﻀﻄﺠﻌﺎ ﺃﻭ ﻣﺘﻜﺌﺎ ﺭﺟﻼﻩ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ ﺃﻭ ﺇﻟﻰ ﻏﻴﺮﻫﺎ ﻓﺎﻟﻤﻌﺘﻜﻒ ﺃﻭﻟﻰ ﺍ ﻫـ ﻭﻧﻘﻠﻪ ﺃﻳﻀﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻌﺮﺍﺝ ﻭﺑﻪ ﻳﻌﻠﻢ ﺗﻔﺴﻴﺮ ﺍﻹﻃﻼﻕ . ﻗﺎﻝ ﻁ : ﻟﻜﻦ ﻗﻮﻟﻪ ﺭﺟﻼﻩ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ ﻏﻴﺮﻣﺴﻠﻢ ﻟﻤﺎ ﻧﺼﻮﺍ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﺔ ﻭﻣﻔﺎﺩ ﻛﻼﻡ ﺍﻟﺸﺎﺭﺡ ﺗﺮﺟﻴﺢ ﻫﺬﺍ ﺍﻻﺳﺘﺪﺭﺍﻙ . ﻭﺍﻟﻈﺎﻫﺮ ﺃﻥ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﺍﻷﻛﻞ ﻭﺍﻟﺸﺮﺏ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﺸﻐﻞ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﻟﻢ ﻳﻠﻮﺛﻪ ﻷﻥ ﺗﻨﻈﻴﻔﻪ ﻭﺍﺟﺐ ﻛﻤﺎ ﻣﺮ . ইবনু কামাল পাশা রহ.‘জামে ইস্বীজানীর’ উদ্ধৃতিতে বলেন, ই‘তিকাফকারী ছাড়া অন্যদের জন্যও মসজিদে ঘুমানো জায়েয। ব্যক্তি স্থানীয় হোক বা মুসাফির। চিৎ হয়ে ঘুমাক কিংবা কিবলার দিকে বা যে কোন দিকে পা দিয়ে। সুতরাং ই‘তিকাফকারীর জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েয হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট। শামী রহ. বলেন, মি‘রাজুদদিরায়া কিতাবেও তা উদ্ধৃত করেছেন। … তবে তাঁর বক্তব্যে কিবলার দিকে পা দেওয়া জায়েয হওয়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য। বরং তা মাকরূহ। শামী রহ. বলেন, মসজিদে ঘুম খাবার-দাবার জায়েয বটে; কিন্তু তা যেন মসজিদকে অপবিত্র না করে। কারণ মসজিদ পবিত্র রাখা ওয়াজিব। (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়ায়ে শামী) সুতরাং মসজিদে ই‘তিকাফের নিয়ত ছাড়াই ঘুমানো জায়েয। তবে ই‘তিকাফের নিয়ত করে নেয়া ভাল। তবে সর্বাবস্থায়ই মসজিদের আদবের প্রতি লক্ষ রাখা আবশ্যক। উপরোল্লেখিত আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট বুঝা যায়, ১.যার থাকার যায়গা নেই, যে মুসাফির বা পথিক (এখানে মুসাফির বলতে বাড়ি থেকে দূরে যে কোন লোককেই বুঝানো হয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রের পরিভাষার মুসাফির উদ্দেশ্য নয়) ২.যে ইবাদত বন্দেগী তথা নেক কাজ করার জন্য মসজিদে থাকতে চায়, ৩.যে ইতিকাফের নিয়ত করেছে, ৪.যে দীনী ইলম, জ্ঞান শিখতে বা শিখাতে চায় তাদের সকলের জন্যত মসজিদে থাকা অবশ্যই জায়েয। ৫.বরং এসকল উদ্দেশ্য ছাড়াও মসজিদে ঘুমানো যায়েজ। তবে এক্ষেত্রে ইতিকাফের নিয়ত করে নেয়া ভাল। বলা বাহুল্য যে, ১.তাবলীগ জামাতের লোকেরা সাধারণত মুসাফিরই হয়ে থাকে। অন্তত বাড়ী থেকে এত দূরে যায় যেখান থেকে বাড়ীতে এসে ঘুমাতে হলে তাঁর দাওয়াতের কাজ, তাঁর দীন শিক্ষা করা বা দীন শিক্ষা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যটিই ব্যর্থ হবে। ২.তা ছাড়া তাবলীগে গমনের একটি মৌলিক উদ্দেশ্য হল, (ফাজায়েলে আমল ইত্যাদি) তালীমের মাধ্যমে, মোজাকারা (পরষ্পরে আলোচনা) ও মোশাওয়ারার মাধ্যমে নিজে দীন শিক্ষা করা, অন্য নতুন সাথীদেরকে দীন শিক্ষা দেওয়া এবং এলাকার মুসলমান ভাইদেরকে দীন শিক্ষা দেওয়া ও তাদেরকে মসজিদমুখী করা। ৩.তাছাড়া তাবলীগে গমনের আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্য হল, মানুষ আপন বাড়িতে নিজ পরিবেশে থেকে গুনাহে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের গুনাহের অভ্যাস ছাড়িয়ে নেক কাজের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলার জন্যই বছরে এবং মাসে কিছু দিন আল্লাহর ঘরে নেক কাজের উদ্দেশ্যে থাকা। ৪. লোকেরা যখন তাবলীগের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন মারকাজ থেকে তাদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু গুরুত্ত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হয় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে কঠুরতার সাথে। তাদের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত যিম্মাদারকে তত্ত্বাবধান করার দায়িত্ব থাকে। তখন তাদের বলা হয়, সব সময় নফল ইতিকাফের নিয়ত করে রাকতে। এবং মসজিদের সকল আদব রক্ষা করে চলতে। সুতরাং উপরে উল্লেখিত চারটি কোন একটি শর্ত না থাকলেও মসজিদে ঘুমানো যায়েজ। কোন একটি শর্ত পাওয়া গেলেতো অবশ্যই যায়েজ। আর যদি চারটি শর্তই থাকে তাহলে তাদের মসজিদে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে সাহস কার আছে বলেন! বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে হুকুম করেছেন, “ তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সেজদাকারী তথা, নামাযীদের জন্য পবিত্র করে রাখ” (সূরা বাকারা আয়াত, ১২৫) এখানে আল্লাহ তাআলা ইতিকাফকারীদের জন্য তাঁর ঘরকে সাজিয়ে রাখতে বলেছেন। সুতরাং কেউ যদি মসজিদে থাকার সময় ইতিকাফের নিয়ত করে তাহলে কার সাধ্য আছে আল্লাহর মেহমানকে আল্লাহর ঘরে থাকতে বাধা দেয়ার! আসলে আমাদের সমাজের সাধারণ মুসলমানরা না জানার কারণে বা কিছু মুর্খ, স্বার্থান্বেশী, দাওয়াতজীবী ও ওয়াজজীবী, দাওয়াত খাওয়া ও ওয়াজেব্যবসা করাই যাদের পেশা, এমন লোকদের কথায় কথায় কত বড় অন্যায় করে আসছে! এটাত আল্লাহর বিরুদ্ধে শত্রুতা! আল্লাহর দুশমনি! হায়, কে বুঝাবে তাদের। এরা বুঝতেও রাজি না। আল্লাহ, এরাতো আমাদেরই জ্ঞাতি ভাই। এদের তুমি সঠিক জ্ঞান দান কর। আমাদেকে এবং তাদেরকে সকলকে ক্ষমা করে দাও। (২) ই‘তিকাফের সময় ও এর জন্য রোজা কেউ কেউ বলে থাকেন, ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। তাবলীগীরা যেহেতু রোজা রাখেনা, তাই তাদের ইতিকাফের নিয়ত করলেও তা ধর্তব্য হবে না! কিন্তু তাদের এ বক্তব্য নিতান্তই অবান্তর। কারণ ই‘তিকাফ তিন প্রকার। ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল। প্রথম দুই প্রকার ই‘তিকাফের জন্য (ইমাম আবুহানীফা, আবু ইউসূফ ও মুহাম্মদ রহ. এর মতানুসারে) রোজা রাখা শর্ত। (দ্র. আহকামুল কুরআন, জাছ্ছাছ) কিন্তু নফল ই‘তিকাফের জন্য কোন নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন নেই। যে কোন মুহুর্তে হয়। এবং এর জন্য রোজা রাখাও শর্ত নয়। ইবনে আবীদীন শামী রহ. বলেন, ( ﻭﺃﻗﻠﻪ ﻧﻔﻼ ﺳﺎﻋﺔ ‏) ﻣﻦ ﻟﻴﻞ ﺃﻭ ﻧﻬﺎﺭ ﻋﻨﺪ ﻣﺤﻤﺪ ﻭﻫﻮ ﻇﺎﻫﺮ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺔ ﻋﻦ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﻟﺒﻨﺎﺀ ﺍﻟﻨﻔﻞ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺴﺎﻣﺤﺔ ﻭﺑﻪ ﻳﻔﺘﻰ ইমাম মুহম্মদ রহ. এর মতে নফল ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন পরিমাণ এক মূহুর্ত। ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতও এটিই। তাঁর থেকে এ মতটি ‘জাহেরী রেওয়াতের’ আলোকে অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য ও সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। এমতের উপরই ফতোয়া দেওয়া হয়। (রদ্দুল মুহ্তার, ফাতওয়ায়ে শামী) ই‘তিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত কি না, এ প্রসঙ্গে ইমাম আবু হানীফা রহ. থেকে দুই ধরণের বর্ণনাই রয়েছে। তবে এর মধ্যে ‘জাহেরে রেওয়ায়াত’ হল, নফল ই‘তিকাফের জন্য রোজা রাখা জরুরী নয়। কারণ নফল ই‘তিকাফ এক মহুর্তের জন্যও হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে ফকীহ ইবনে নুজাইম রহ. বলেন, ( ﻗﻮﻟﻪ : ﻭﺃﻗﻠﻪ ﻧﻔﻼﺳﺎﻋﺔ ‏) ﻟﻘﻮﻝ ﻣﺤﻤﺪ ﻓﻲ ﺍﻷﺻﻞ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺑﻨﻴﺔ ﺍﻻﻋﺘﻜﺎﻑ ﻓﻬﻮ ﻣﻌﺘﻜﻒ ﻣﺎ ﺃﻗﺎﻡ ﺗﺎﺭﻙ ﻟﻪ ﺇﺫﺍ ﺧﺮﺝ ﻓﻜﺎﻥ ﻇﺎﻫﺮ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺔ ﻭﺍﺳﺘﻨﺒﻂ ﺍﻟﻤﺸﺎﻳﺦ ﻣﻨﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﺼﻮﻡ ﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﺷﺮﻃﻪ ﻋﻠﻰ ﻇﺎﻫﺮ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺔ ؛ ﻷﻥ ﻣﺒﻨﻰ ﺍﻟﻨﻔﻞ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺴﺎﻣﺤﺔ ﺣﺘﻰ ﺟﺎﺯﺕ ﺻﻼﺗﻪ ﻗﺎﻋﺪﺍ ، ﺃﻭ ﺭﺍﻛﺒﺎ ﻣﻊ ﻗﺪﺭﺗﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺮﻛﻮﺏ ﻭﺍﻟﻨﺰﻭﻝ ﻭﻻ ﻳﺨﻔﻰ ﺃﻥ ﻣﺎ ﺍﺩﻋﺎﻩ ﺃﻣﺮ ﻋﻘﻠﻲ ﻣﺴﻠﻢ ﻭﺑﻬﺬﺍ ﻻ ﻳﻨﺪﻓﻊ ﻣﺎ ﺻﺮﺡ ﺑﻪ ﺍﻟﻤﺸﺎﻳﺦ ﺍﻟﺜﻘﺎﺕ ﻣﻦ ﺃﻥ ﻇﺎﻫﺮ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺔ ﺃﻥ ﺍﻟﺼﻮﻡ ﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﺷﺮﻃﻪ ﻭﻣﻤﻦ ﺻﺮﺡ ﺑﻪ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﻤﺒﺴﻮﻁ ﻭﺷﺮﺡ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻱ ﻭﻓﺘﺎﻭﻯ ﻗﺎﺿﻲ ﺧﺎﻥ ﻭﺍﻟﺬﺧﻴﺮﺓ ﻭﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻈﻬﻴﺮﻳﺔ ﻭﺍﻟﻜﺎﻓﻲ ﻟﻠﻤﺼﻨﻒ ﻭﺍﻟﺒﺪﺍﺋﻊ ﻭﺍﻟﻨﻬﺎﻳﺔ ﻭﻏﺎﻳﺔ ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ ﻭﺍﻟﺘﺒﻴﻴﻦ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ ﻭﺍﻟﻜﻞ ﻣﺼﺮﺣﻮﻥ ﺑﺄﻥ ﻇﺎﻫﺮ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺔ ﺃﻥ ﺍﻟﺼﻮﻡ ﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﺷﺮﻃﻪ অর্থাৎ ই‘তিকাফ সম্পর্কে ‘জাহেরে রেওয়ায়াতের’ আলোকে দুটি বিষয় প্রমাণিত: ১. (নফল) ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন পরিমাণ এক মূহুর্ত ২. রোযা রাখা (নফল) ই‘তিকাফের জন্য শর্ত নয়। ফুকাহা-মাশায়েখ স্পষ্ট ভাষায় একথা উল্লেখ করেছেন। হানাফী মাযহাবের ১.আলমাবসূত, ২.শরহু মুখতাছারুত্তাহা বী, ৩.ফাতওয়ায়ে কাযী খান, ৪.যাখীরা, ৫.ফাতাওয়ায়ে জহীরিয়া, ৬.আল কাফী, ৭.বাদাইউছ ছানায়ে, ৮.আননিহায়া, ৯.গায়াতুল বয়ান, ১০.তাব্য়ীন ইত্যাদি কিতাবে একথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। (আল-বাহরুর রায়েক, আরো দ্রষ্টব্য, ফাতহুল কাদীর, রাদ্দুল মুহ্তার (ফাতাওয়ায়ে শামী), আলমুহীতুল বুরহানী ইত্যাদি) এটিই হানাফী মাযহাবে গ্রহণযোগ্য মত। ইমাম মুহাম্মদ রহ. এর সপক্ষে দলীল হিসেবে বর্ণনা করেন, ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻳﻮﺳﻒ ﻋﻦ ﻟﻴﺚ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻠﻴﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﻋﻦ ﻣﻘﺴﻢ ﻋﻦ ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻃﺎﻟﺐ ﺭﺿﻮﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﻟﻴﺲ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﻌﺘﻜﻒ ﺻﻮﻡ ﺇﻻ ﺃﻥ ﻳﻮﺟﺒﻪ ﻋﻠﻰ ﻧﻔﺴﻪ - ﺍﻟﻤﺒﺴﻮﻁ ﻟﻤﺤﻤﺪ . হযরত আলী রা. বলেন, ই‘তিকাফকারীর জন্য রোজা রাখা জরুরী নয়। তবে সে যদি নিজের উপর (মান্নতের মাধ্যমে) রোজা ওয়াজিব করে তাহলে ভিন্ন কথা। (কিতাবুল আছল, মাবসূতে মুহাম্মদ) সুতরাং দ্বীনি প্রয়োজনে বা কোন ভাল উদ্দেশ্যে মসজিদে থাকতে হলে নফল ই‘তিকাফের নিয়ত করে নিতে কোন সমস্যা নেই। এতে মসজিদে ঘুমানো জায়েযত হবেই, উপরন্তু তার ঘুম, খাওয়া-দাওয়া সবটাই ইবাদতে গণ্য হবে। হাঁ, মসজিদে অবস্থানকারীদের জন্য মসজিদের আদবের প্রতি যত্নবান হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারা জানা না থাকার কারণে বা ভুলে আদবের খেলাফ কিছু হয়ে গেলে, যে জানে তার দায়িত্ব হল তাকে জানিয়ে দেয়া। এজন্যই তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে যখন কোন জামাতকে কোন মসজিদে পাঠানো হয়, তখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মসজিদের আদব সমূহ তাদের রপ্ত করিয়ে দেওয়া হয়। তাতে সাধারণ শিক্ষিত-অশিক্ষত নানা ধরণের লোক থাকে বলেই তাদের মধ্যে এক্ষেত্রে কিছু ভুল-ত্রুটি হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের দায়িত্ব হল কারো ভুল ত্রুটি ধরা পড়লে তাকে মার্জিত ভাবে বলে দেওয়া। কিন্তু একে কেন্দ্র করে ‘তাবলীগ জামাতের’ কোন দূর্ণাম করার সুযোগ নেই। এবং কারো ব্যক্তিগত ভুল-ত্রুটির জন্য ‘মসজিদে ঘুমানো জায়েয, এ হুকুম পরিবর্তন করে ফেলারমত দুঃসাহস আমাদের হয় কি করে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হিফাযত করেন। (৩) মসজিদে বাতকর্ম (বায়ূ ত্যাগ) করা: আবার কেউ কেউ নির্লজ্জের মত তাবলীগীদের বদনাম করার জন্য বলে এরা মসজিদ নাপাক করে। এদেরকে মসজিদে থাকতে দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু তাঁদের এ মন্তব্যটি বড়ই দুঃখ জনক। মূলত এটি বিদ্বেষ প্রসূত। হিংসা বিদ্বেষের বসবর্তী হয়েই মানুষ এ ধরণের অপকথা বলতে থাকে। বস্তুত মসজিদ ইবাদতের স্থান। একে দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু থেকে পবিত্র রাখা জরুরী। অপরদিকে আমাদেরকে নামায, তিলাওয়াত, যিকির, তালীম (দ্বীনি শিক্ষা-দীক্ষার কাজ) ও ওয়াজ-নসীহতের জন্য আমাদের মসজিদে অবস্থান করতে হয়। ফলে যে কোন সময় বায়ূ নিঃসারণের সম্ভাবনা থাকে। কারণ বায়ূ ত্যাগের বিষয়টি অনেক সময়ই ইচ্ছাধীন থাকেনা। আপনিতেই বের হয়ে যায়।

রচনা। শবেবরাত সম্পর্কে। প্রকাশক, মুফতী,মুফিদ। ১ম পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত? ১ম পর্ব : শবে বরাতের বাস্তবতা * সালাফীদের মাথা ব্যথা দলীল দ্বারা প্রমাণিত* কেন তারা মিথ্যায় রত? ❖প্রশ্ন : আজকাল কারো কারো মুখে শোনা যায় যে, শবে বরাত বলতে কিছু নেই, এ রাতের ফযীলত বিষয়ে যত রেওয়ায়েত আছে সব মওযূ বা যয়ীফ। তাই শবে বরাতকে ফযীলতপূর্ণ রাত মনে করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা জায়েয নয়। তাদের দাবী কি সঠিক? যদি সঠিক না হয় তাহলে হাদীস ও সুন্নাহর আলোকে শবে বরাতের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন। ❖উত্তর : না তাদের দাবী সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত। শবে বরাত অর্থাৎ ১৫ শা’বানের রজনী। যার ফযীলত সম্পর্কে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ✏ ০১. হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) এর হাদীস- ﺻﺤﻴﺢ ﺍﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ - ﻣﺤﻘﻘﺎ ‏(/12 481 ‏) 5665 - ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﻤُﻌَﺎﻓَﻰ ﺍﻟْﻌَﺎﺑِﺪُ ﺑِﺼَﻴْﺪَﺍ، ﻭَﺍﺑْﻦُ ﻗُﺘَﻴْﺒَﺔَ ﻭَﻏَﻴْﺮُﻩُ، ﻗَﺎﻟُﻮﺍ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻫِﺸَﺎﻡُ ﺑْﻦُ ﺧَﺎﻟِﺪٍ ﺍﻟْﺄَﺯْﺭَﻕُ، ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺧُﻠَﻴْﺪٍ ﻋُﺘْﺒَﺔُ ﺑْﻦُ ﺣَﻤَّﺎﺩٍ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺄَﻭْﺯَﺍﻋِﻲِّ، ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺛَﻮْﺑَﺎﻥَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻣَﻜْﺤُﻮﻝٍ، ﻋَﻦْ ﻣَﺎﻟِﻚِ ﺑْﻦِ ﻳُﺨَﺎﻣِﺮَ ﻋَﻦْ ﻣُﻌَﺎﺫِ ﺑْﻦِ ﺟَﺒَﻞٍ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﻳَﻄْﻠُﻊُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺧَﻠْﻘِﻪِ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ ﻓَﻴَﻐْﻔِﺮُ ﻟِﺠَﻤِﻴﻊِ ﺧَﻠْﻘِﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻤُﺸْﺮِﻙٍ ﺃَﻭْ ﻣُﺸَﺎﺣِﻦٍ‏» অর্থ : হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শা’বানের রাতে (শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতিত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।-সহীহ ইবনে হিব্বান-১২/৪৮১, হাদীস-৫৬৬৫, কিতাবুস সুন্নাহ-১/২২৪, হাদীস-৫১২, আল ইহসান-৭/৪৭, মাওয়ারিদুয যমআন-৪৮৬, হাদীস-১৯৮০, মাজমাউ যাওয়াইদ-৮/৬৫, সিলসিলাতুস সহীহা-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪, শোয়াবুল ঈমান-৩/৩৮২, হাদীস-৩৮৩৩, আল মু’জামুল কাবীর-২০/১০৮,১০৯, আততারগীব-২/২৪২ ইত্যাদি অসংখ্য কিতাব। ░▒▓█► হাদীসটির মান : হাদীসটি সম্পূর্ণ সহীহ ০১. ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.-৩৫৪) বলেন, হাদীসটি সহীহ। সহীহ ইবনে হিব্বান-১২/৪৮১, হাদীস-৫৬৬৫। ০২. আহলে হাদীসদের মহাগুরু শায়খ নাসীর উদ্দীন আলবানী(১৪২০) বলেন- ﺳﻠﺴﻠﺔ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ ﻭﺷﻲﺀ ﻣﻦ ﻓﻘﻬﻬﺎ ﻭﻓﻮﺍﺋﺪﻫﺎ ‏(/3 135 ‏) 1144 - " ﻳﻄﻠﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﺒﺎﺭﻙ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ ﺇﻟﻰ ﺧﻠﻘﻪ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ، ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻟﺠﻤﻴﻊ ﺧﻠﻘﻪ ﺇﻻ ﻟﻤﺸﺮﻙ ﺃﻭ ﻣﺸﺎﺣﻦ ." ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ، ﺭﻭﻱ ﻋﻦ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻣﻦ ﻃﺮﻕ ﻣﺨﺘﻠﻔﺔ ﻳﺸﺪ ﺑﻌﻀﻬﺎ ﺑﻌﻀﺎ ﻭﻫﻢ ﻣﻌﺎﺫ ﺍﺑﻦ ﺟﺒﻞ ﻭﺃﺑﻮ ﺛﻌﻠﺒﺔ ﺍﻟﺨﺸﻨﻲ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﻭﺃﺑﻲ ﻣﻮﺳﻰ ﺍﻷﺷﻌﺮﻱ ﻭﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻭﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺍﻟﺼﺪﻳﻖ ﻭﻋﻮﻑ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻭﻋﺎﺋﺸﺔ . উক্ত হাদীসটি সহীহ, যা সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর এক বড় জামাত বর্ণনা করেছেন এবং একটি হাদীস অন্য হাদীস এর সনদকে আরো মজবুত করে তুলে। সাহাবীদের থেকে বর্ণনাকারীগণ হলেন (০১) হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) (০২) আবূ সালাবা আল খাসানী (রা.) (০৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (০৪) আবূ মূসা আল আশআরী (রা.) (০৫) আবূ হুরায়রা (রা.) (০৬) আবূ বকর সিদ্দীক (রা.) (০৭) আউফ ইবনে মালেক (রা.) (০৮) হযরত আয়েশা (রা.)। সিলসিলাতুস সহীহা-৩/১৩৫, হাদীস-১১৪৪। ০৩. আল্লামা মুনজেরী (রহ.-৬৫৬) বলেন উক্ত হাদীসটি সহীহ। আত তারগীব ওয়াত তারহীব-২/৭৩, হাদীস-১৫৪৬। ০৪. আল্লামা হায়সামী (রহ.-৮০৭) বলেন- ﻣﺠﻤﻊ ﺍﻟﺰﻭﺍﺋﺪ ﻭﻣﻨﺒﻊ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺪ ‏(/8 65 ‏) ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟﻄَّﺒَﺮَﺍﻧِﻲُّ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜَﺒِﻴﺮِ ﻭَﺍﻟْﺄَﻭْﺳَﻂِ ﻭَﺭِﺟَﺎﻟُﻬُﻤَﺎ ﺛِﻘَﺎﺕٌ . উক্ত হাদীসটি ইমাম তাবরানী তার মুজামুল কাবীর ও আওসাতে সংকলন করেছেন, এবং সংকলিত হাদীস এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। মাজমাওজ যাওয়েদ-৮/৬৫, হাদীস-১২৯৬০। ✏ ০২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) এর হাদীস- ﻣﺴﻨﺪ ﺃﺣﻤﺪ ‏(/6 197 ‏) 6642 - ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺣﺴﻦ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﻟَﻬِﻴﻌﺔ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺣﻴﻲُّ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺤُﺒُﻠّﻲ ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ، ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻗﺎﻝ : "ﻳﻄَّﻠﻊُ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﺇﻟﻲ ﺧﻠﻘﻪ ﻟﻴﻠﺔَ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ، ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻟﻌﺒﺎﺩﻩ، ﺇﻻ ﻻﺛﻨﻴﻦ : ﻣﺸﺎﺣﻦٍ، ﻭﻗﺎﺗِﻞِ ﻧﻔﺲٍ ." অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ১৫ই শা’বানের রাত্রে আল্লাহ পাক তার বান্দাদের ক্ষমা করে দেন দুই ব্যক্তি ছাড়া। এক. পরশ্রীকাতর। দুই. অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যাকারী। মুসনাদে আহমদ-৬/১৯৭, হাদীস-৬৬৪২, মাজমাউস জাওয়ায়েদ-৮/৬৫, হাদীস-১২৯৬১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল মুনজেরী-৩/৩০৮, হাদীস-৪৮৯২। ইত্যাদি অসংখ্য কিতাব..। ░▒▓█► হাদীসটির মান : উক্ত হাদীসটি হাসান তথা প্রমাণযোগ্য। হাদীস এর সূত্রের মাঝে একজন বর্ণনাকারী হলেন ‘‘ইবনে লাহিয়া’’ কতক ইমাম তার সিকাহ বা নির্ভর হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোশন করেছেন কিন্তু সঠিক সমাধান আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) , ইমাম আবূ হাফস ওমর ইবনে শাহিন (রহ.), আহমদ ইবনে সালেহ আল মিসরী, তাকে সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে ওহাব আল মিসরী বলেন- ﺍﻟﺼﺎﺩﻕ ﺍﻟﺒﺎﺭ ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে ইউসূফ ইবনে খেরাশ (রহ.) বলেন- ﻳﻜﺘﺐ ﺣﺪﻳﺜﻪ হফেজ যাহাবী (রহ.) বলেন- ﺫﻛﺮﻩ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺎﺷﻒ ، ﻭﻗﺎﻝ : ﺍﻟﻌﻤﻞ ﻋﻠﻰ ﺗﻀﻌﻴﻒ ﺣﺪﻳﺜﻪ আর আল্লামা হায়সামী (রহ.) বলেন- ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺃَﺣْﻤَﺪُ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﺍﺑْﻦُ ﻟَﻬِﻴﻌَﺔَ ﻭَﻫُﻮَ ﻟَﻴِّﻦُ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ، ﻭَﺑَﻘِﻴَّﺔُ ﺭِﺟَﺎﻟِﻪِ ﻭُﺛِّﻘُﻮﺍ . অন্যত্র আল্লামা হায়সামী (রহ.) তার সূত্রে বর্ণিত হাদীসকে হাসান বলে মন্তব্য করেছেন। নিন্মে তার দুটি দৃষ্টান্ত দেয়া হলো। ❐০১. নং হাদীস- ﻣﺠﻤﻊ ﺍﻟﺰﻭﺍﺋﺪ ﻭﻣﻨﺒﻊ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺪ ‏(/1 53 ‏) 163 - ‏« ﻭَﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮٍ - ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ - ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻣَﺮَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ - ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ - ﺳُﺤَﻴْﻤًﺎ ﺃَﻥْ ﻳُﺆَﺫِّﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃَﻥْ " ﻟَﺎ ﻳَﺪْﺧُﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺇِﻟَّﺎ ﻣُﺆْﻣِﻦٌ ‏» ." ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺃَﺣْﻤَﺪُ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﺍﺑْﻦُ ﻟَﻬِﻴﻌَﺔَ، ﻭَﺇِﺳْﻨَﺎﺩُﻩُ ﺣَﺴَﻦٌ . ❐০২. নং হাদীস- ﻣﺠﻤﻊ ﺍﻟﺰﻭﺍﺋﺪ ﻭﻣﻨﺒﻊ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺪ ‏(/1 155 ‏) 702 - ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ - ﻗَﺎﻝَ : " ‏« ﻟَﻮَﺩِﺩْﺕُ ﺃَﻥَّ ﺑَﻴْﻨِﻲ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻫْﻞِ ﻧَﺠْﺮَﺍﻥَ ﺣِﺠَﺎﺑًﺎ ﻣِﻦْ ﺷِﺪَّﺓِ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳُﺠَﺎﺩِﻟُﻮﻧَﻪُ ‏» ." ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒَﺰَّﺍﺭُ ﻭَﺍﻟﻄَّﺒَﺮَﺍﻧِﻲُّ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜَﺒِﻴﺮِ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﺍﺑْﻦُ ﻟَﻬِﻴﻌَﺔَ، ﻭَﺣَﺪِﻳﺜُﻪُ ﺣَﺴَﻦٌ . ❀ এছাড়াও ইমাম মুসলিম (রহ.) তার সহীহ মুসলিমে ‘‘ইববে লাহিয়ার’ সনদে বর্ণিত হাদীসকে উল্লেখ করছেন- ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ‏(/1 435 ‏) 197 - ‏(624 ‏) ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﻤْﺮُﻭ ﺑْﻦُ ﺳَﻮَّﺍﺩٍ ﺍﻟْﻌَﺎﻣِﺮِﻱُّ، ﻭَﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺍﻟْﻤُﺮَﺍﺩِﻱُّ، ﻭَﺃَﺣْﻤَﺪُ ﺑْﻦُ ﻋِﻴﺴَﻰ، ﻭَﺃَﻟْﻔَﺎﻇُﻬُﻢْ ﻣُﺘَﻘَﺎﺭِﺑَﺔٌ، ﻗَﺎﻝَ ﻋَﻤْﺮٌﻭ : ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ، ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﺂﺧَﺮَﺍﻥِ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺍﺑْﻦُ ﻭَﻫْﺐٍ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﻲ ﻋَﻤْﺮُﻭ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ، ﻋَﻦْ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﺣَﺒِﻴﺐٍ، ﺃَﻥَّ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺑْﻦَ ﺳَﻌْﺪٍ ﺍﻟْﺄَﻧْﺼَﺎﺭِﻱَّ، ﺣَﺪَّﺛَﻪُ ﻋَﻦْ ﺣَﻔْﺺِ ﺑْﻦِ ﻋُﺒَﻴْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ، ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ : " ﺻَﻠَّﻰ ﻟَﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮَ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺍﻧْﺼَﺮَﻑَ ﺃَﺗَﺎﻩُ ﺭَﺟُﻞٌ ﻣِﻦْ ﺑَﻨِﻲ ﺳَﻠَﻤَﺔَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ، ﺇِﻧَّﺎ ﻧُﺮِﻳﺪُ ﺃَﻥْ ﻧَﻨْﺤَﺮَ ﺟَﺰُﻭﺭًﺍ ﻟَﻨَﺎ، ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﻧُﺤِﺐُّ ﺃَﻥْ ﺗَﺤْﻀُﺮَﻫَﺎ " ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻧَﻌَﻢْ، ﻓَﺎﻧْﻄَﻠَﻖَ ﻭَﺍﻧْﻄَﻠَﻘْﻨَﺎ ﻣَﻌَﻪُ، ﻓَﻮَﺟَﺪْﻧَﺎ ﺍﻟْﺠَﺰُﻭﺭَ ﻟَﻢْ ﺗُﻨْﺤَﺮْ، ﻓَﻨُﺤِﺮَﺕْ، ﺛُﻢَّ ﻗُﻄِّﻌَﺖْ، ﺛُﻢَّ ﻃُﺒِﺦَ ﻣِﻨْﻬَﺎ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻛَﻠْﻨَﺎ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﺗَﻐِﻴﺐَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲُ ‏» ﻭﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﻤُﺮَﺍﺩِﻱُّ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺍﺑْﻦُ ﻭَﻫْﺐٍ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻟَﻬِﻴﻌَﺔَ، ﻭَﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ উক্ত হাদীসটিকে উল্লেখ করেছেন। (আর মুসলিম এর সকল হাদীস সহীহ তার মাঝে কোন সন্দেহ নেই) অতঃপর ইমাম মুসলিম (রহ.) নিজ উস্তাদ আল্লামা মুরাদী (রহ.-২৪৮) এর উক্তি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন নিন্ম হাদীসটি আমি শুনেছি ইবনে ওহাব থেকে, তিনি ‘‘ইবনে লাহিয়া’’ থেকে, তিনি আমর ইবনে হারেস থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রিয় পাঠক এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন “ইবনে লাহিয়া” কি প্রমাণযোগ্য কি না? সহীহ মুসলিম-১/৪৩৫, হাদীস-৬২৪। ❁প্রিয় পাঠক বৃন্দ উক্ত দুটি হাদীস দ্বারা আমরা স্পষ্ট যে, আহলে হাদীস ভাইদের নিন্ম দাবী- ❏‘‘শবে বরাত বলতে কিছু নেই, এ রাতের ফযীলত বিষয়ে যত রেওয়ায়েত আছে সব মওযূ বা যয়ীফ। তাই শবে বরাতকে ফযীলতপূর্ণ রাত মনে করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা জায়েয নয়।’’❏ এ দাবীটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেননা শবে বরাত/১৫ শা’বান ইবাদত করা কোন বেতআতী পন্থা নয়, বরং সহীহ হাদীস দ্বারা এই রাত্রি প্রমাণিত এবং এটি মহান আল্লাহ ক্ষমা করার এক মহা রাত্রি। অতএব মানুষের মাঝে মিথ্যাচার করার সুযোগ আর বাকী রইলো কোথা থেকে? ✪✿ বি. দ্র. কয়েকটি পর্বে সংক্ষেপে এই বিষয়ের আলোচনা শেষ করবো, কেননা বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে প্রায় ২০০ এর অধিক পৃষ্ঠায় একটি পুস্তিকায় পরিণত হবে। শেষ পর্বে আপনাদের জন্য বিষেশ উপহার থাকবে আর তা হলো আহলে হাদীস ভাইদের কোন কোন ইমাম উক্ত রাত্রি পালন করা ও প্রামাণিত হওয়ার প্রবক্তা। ✔মহান আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক দ্বীন বুঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন SUNDAY, MAY 24, 2015 Mufti Sanaullah at 6:35 AM ০১ম পর্ব : তাবলীগ বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে এখন এতেকাফ নিয়েও বিভ্রান্তিতে সালাফীগণ ০১ম পর্ব তাবলীগ বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে এখন এতেকাফ নিয়েও বিভ্রান্তিতে সালাফীগণ ❖ প্রশ্ন : কথিত আহলে হাদীস তথা সালাফী ভাইয়েরা বলেন, তাবলীগের সাথীগণ (রমজান ব্যতীত) এতেকাফের নিয়ত করে মসজিদে অবস্থান করেন, অথচ ইসলামে ইতেকাফ বলতে মাহে রমজানের শেষ দশ দিন ছাড়া আর কোথাও নেই। তাহলে তারা কিসের এতেকাফ করে? তাদের এই তথ্য কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন। ❖ জবাব : তাদের এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল ও মুসলিমদেরকে প্রকৃত দ্বীনের মেহনত থেকে সরিয়ে দিতে এই ষড়যন্ত্রের পন্থা অবলম্বন করেছে। আমরা তাদেরকে লক্ষ করে বলতে চাই ‘‘যতই তোমরা ফেৎনা কর, নিত্য নতুন ফন্দি আঁক লাভ হবে না।’’ কেননা কোরআন ও সুন্নাহের দৃষ্টিতে দেখলে এতেকাফ তিন প্রকার। তা সাব্যস্ত হয়। যা নিন্মে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো- ✏ আল্লামা ইবনে আবেদীন শামি (রহ.) বলেন- ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﻭﺣﺎﺷﻴﺔ ﺍﺑﻦ ﻋﺎﺑﺪﻳﻦ ‏(ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ ‏) ‏(/2 441 ‏) ‏( ﻭَﻫُﻮَ ‏) ﺛَﻠَﺎﺛَﺔُ ﺃَﻗْﺴَﺎﻡٍ ‏( ﻭَﺍﺟِﺐُ ﺍﻟﻨَّﺬْﺭِ ‏) ﺑِﻠِﺴَﺎﻧِﻪِ ﻭَﺑِﺎﻟﺸُّﺮُﻭﻉِ ﻭَﺑِﺎﻟﺘَّﻌْﻠِﻴﻖِ ﺫَﻛَﺮَﻩُ ﺍﺑْﻦُ ﺍﻟْﻜَﻤَﺎﻝِ ‏( ﻭَﺳُﻨَّﺔٌ ﻣُﺆَﻛَّﺪَﺓٌ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮِ ﺍﻟْﺄَﺧِﻴﺮِ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ‏) ﺃَﻱْ ﺳُﻨَّﺔُ ﻛِﻔَﺎﻳَﺔٍ ﻛَﻤَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒُﺮْﻫَﺎﻥِ ﻭَﻏَﻴْﺮِﻩِ ﻟِﺎﻗْﺘِﺮَﺍﻧِﻬَﺎ ﺑِﻌَﺪَﻡِ ﺍﻟْﺈِﻧْﻜَﺎﺭِ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﻔْﻌَﻠْﻪُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑَﺔِ ‏(ﻣُﺴْﺘَﺤَﺐٌّ ﻓِﻲ ﻏَﻴْﺮِﻩِ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺄَﺯْﻣِﻨَﺔِ ‏) ﻫُﻮَ ﺑِﻤَﻌْﻨَﻰ ﻏَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻤُﺆَﻛَّﺪَﺓِ . অর্থ : এতেকাফ তিন প্রকার (১) ওয়াজিব যা মানত করার দ্বারা আবশ্যক হয়ে থাকে.....। (২) সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া, যা মাহে রমজানের শেষ দশ দিনে থাকা হয়। (কেফায়া এজন্য বলা হয়েছে যে, মহল্লার মাঝে সবাই থাকতে হয় বরং একজন থাকলেই সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। (৩) উল্লেখিত দুই প্রকার ব্যতীত অন্য যে কোন সময় এতেকাফ করা মুস্তাহাব/নফল। আদ দুররুল মুখতার ও হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন-২/৪৪১। ✏ ০১. ওয়াজিব এতেকাফ এর দলীল- ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏(/3 48 ‏) 2032 - ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺴَﺪَّﺩٌ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦُ ﺳَﻌِﻴﺪٍ، ﻋَﻦْ ﻋُﺒَﻴْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﻲ ﻧَﺎﻓِﻊٌ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ، ﺃَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﺳَﺄَﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛُﻨْﺖُ ﻧَﺬَﺭْﺕُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ ﺃَﻥْ ﺃَﻋْﺘَﻜِﻒَ ﻟَﻴْﻠَﺔً ﻓِﻲ ﺍﻟﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟﺤَﺮَﺍﻡِ، ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﻓَﺄَﻭْﻑِ ﺑِﻨَﺬْﺭِﻙَ‏» অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তার পিতা হযরত ওমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলো যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি জাহেলী যুগে মানত করেছি যে, আমি মাসজিদে হারামে এতেকাফ করবো, (এখন আমাকে কি এতেকাফ করতে হবে?) রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি অবশ্যই তোমার মানতকে পুরা কর। বুখারী-৩/৪৮, হাদীস-২০৩২। ❐ অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏(/8 142 ‏) 6696 - ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻧُﻌَﻴْﻢٍ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣَﺎﻟِﻚٌ، ﻋَﻦْ ﻃَﻠْﺤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻤَﻠِﻚِ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻘَﺎﺳِﻢِ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻣَﻦْ ﻧَﺬَﺭَ ﺃَﻥْ ﻳُﻄِﻴﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓَﻠْﻴُﻄِﻌْﻪُ، ﻭَﻣَﻦْ ﻧَﺬَﺭَ ﺃَﻥْ ﻳَﻌْﺼِﻴَﻪُ ﻓَﻼَ ﻳَﻌْﺼِﻪِ ‏» অর্থ : হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ যদি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করে, তাহলে সে যেন অবশ্যই তা পুরা করে, আর কেউ যদি গুনাহের মানত করে, তাহলে সে যেন ঐ গুনাহ না করে। বুখারী-৮/১৪২, হাদীস-৬৬৯৬। উল্লেখিত দুটি হাদীস দ্বারা মানত করলে এতেকাফ করা ওয়াজিব তা প্রমাণিত। ✏ ০২. সুন্নাত এতেকাফ এর দলীল- ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏(/3 47 ‏) 2025 - ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﺍﺑْﻦُ ﻭَﻫْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﻳُﻮﻧُﺲَ، ﺃَﻥَّ ﻧَﺎﻓِﻌًﺎ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻩُ ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ، ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﺍﻟﻌَﺸْﺮَ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ‏» অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (সা.) মাহে রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন। (অন্য হাদীসে এসেছে আর সুন্নাত হলো মাহে রমজানের শেষ দশ দিন এতকাফ করা)। বুখারী-৩/৪৭, হাদীস-২০২৫। ✏ ০৩. নফল এতেকাফ এর দলীল- }ﻭَﻋَﻬِﺪْﻧَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻭَﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ﺃَﻥْ ﻃَﻬِّﺮَﺍ ﺑَﻴْﺘِﻲَ ﻟِﻠﻄَّﺎﺋِﻔِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﻌَﺎﻛِﻔِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺮُّﻛَّﻊِ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩِ { ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : 125‏] অর্থ : আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, এতেকাফ (অবস্থানকারী) ও রুকু সেজদাকারীদের জন্যে পবিত্র রাখ। সূরা আল বাক্বারা-১২৫। }ﻛُﻠَّﻤَﺎ ﺩَﺧَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﺯَﻛَﺮِﻳَّﺎ ﺍﻟْﻤِﺤْﺮَﺍﺏَ ﻭَﺟَﺪَ ﻋِﻨْﺪَﻫَﺎ ﺭِﺯْﻗًﺎ ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﻣَﺮْﻳَﻢُ ﺃَﻧَّﻰ ﻟَﻚِ ﻫَﺬَﺍ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻫُﻮَ ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﺮْﺯُﻕُ ﻣَﻦْ ﻳَﺸَﺎﺀُ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٍ { ‏[ ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : 37‏] যখনই যাকারিয়া (মসজিদের) মেহরাবের মধ্যে তার কাছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন ‘মারইম’ ! এসব খাবার তোমার কাছে কোথা থেকে এলো? তিনি বলতেন, এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন। সূরা আল ইমরান-৩৭। } ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺒَﺎﺷِﺮُﻭﻫُﻦَّ ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻋَﺎﻛِﻔُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪِ ﺗِﻠْﻚَ ﺣُﺪُﻭﺩُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮﻫَﺎ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻳُﺒَﻴِّﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺁﻳَﺎﺗِﻪِ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢْ ﻳَﺘَّﻘُﻮﻥَ { ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : 187 ‏] অর্থ : আর যতক্ষন তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াতসমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে। সূরা বাকারা-১৮৭। ❁ প্রমাণ্যতা : উক্ত তিনটি আয়াতের মাঝে মহান আল্লাহ কোন এতেকাফের কথা নির্ধারণ করেন বলেন নি, তাইতো মুজতাহেদ ও মুহাদ্দেসগণ বলেন মানত ও মাহে রমজান ব্যতীত অন্য সময় এতেকাফ করা মুস্তাহাব বা নফল। যা মুসল্লি ও তাবলীগের সাথীগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর হযরত মারয়াম (আ.) এর আয়তটিও উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি মসজিদের মেহরাবের মাঝে এতেকাফ ছিলেন যা প্রসিদ্ধ বিষয়। ✏ হাদীস এর মাঝে রাসূল (সা.) বলেন- ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﺍﻟﺼﻐﻴﺮ ﻭﺯﻳﺎﺩﺗﻪ ‏( ﺹ : 12230 ‏) 12230 - ﻣَﻦِ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﺇِﻳﻤَﺎﻧﺎً ﻭَﺍﺣْﺘِﺴﺎﺑﺎً ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗﻘﺪﻡ ﻣﻦ ﺫﻧﺒﻪ ‏( ﻓﺮ ‏) ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ . অথ : যে ব্যক্তি ঈমানের সহিত সাওয়াবের আশায় এতেকাফ করে আল্লাহ তার পূববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। আল জামেউস সগীর-১২২৩০। প্রমাণ্যতা : এধরনের আরো অসংখ্য হাদীস রয়েছে যেখানে মাহে রমজান বা মান্নত এর এতেকাফের কথা উল্লেখ নেই তাহলে নিশ্চয় বুঝা গেলো এটি ত্বিতীয় প্রকারের এতেকাফ তথা নফলসহ সব প্রকারের সাওয়াবের প্রতি অর্পন করা হবে। ✏ আহলে হাদীসদের মহাগুরু শায়খ নাসীর উদ্দীন আলবানী বলেন- ﺇﺭﻭﺍﺀ ﺍﻟﻐﻠﻴﻞ ﻓﻲ ﺗﺨﺮﻳﺞ ﺃﺣﺎﺩﻳﺚ ﻣﻨﺎﺭ ﺍﻟﺴﺒﻴﻞ ‏(/4 139 ‏) ﻭﺯﺍﺩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻰ : " ........... , ﻭﻻ ﺍﻋﺘﻜﺎﻑ ﺇﻻ ﻓﻰ ﻣﺴﺠﺪ ﺟﻤﺎﻋﺔ , ﻭﺍﻟﺴﻨﺔ ﻓﻴﻤﻦ ﺍﻋﺘﻜﻒ ﺃﻥ ﻳﺼﻮﻡ ." ﻗﻠﺖ : ﻭﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ . ❑ ইমাম বায়হাকী বর্ণনা করেন যে, এতেকাফ অবশ্যই এমন মসজিদে হতে হবে। যাতে জামাত অনুষ্ঠিত হয়, আর এতেকাফ অবস্থায় রোজা রাখা সুন্নাত। লিখক (শায়খ আলবানী বলেন) হাদীসটি সহীহ। ❖ প্রমাণ্যতা : দেখুন আহলে হাদীস ভাইগণ বলেন, মাহে রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করা ব্যতীত অন্য কোন প্রকারের এতেকাফ করার প্রমাণ নেই। এখন আমার কথা হলো আলবানী সাহেব উক্ত আলোচনায় বলেছেন ‘‘এতেকাফ অবস্থায় রোজা রাখা সুন্নাত’’ তাহলে কি তাদের নিকেটে মাহে রমজানের রোজা রাখা সুন্নাত? না কি ফরজ? যদি বলেন সুন্নাত তাহলে আপনি কোরআন বিরোধী। কেননা আল্লাহ কোরআনে বলেন-{ ﻛُﺘِﺐَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢُ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡُ { ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : 183 ] তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে বলতে হবে ফরজ। এখন আসুন তাহলে উক্ত হাদীসে ‘‘এতেকাফ অবশ্যই এমন মসজিদে হতে হবে যাতে জামাত অনুষ্ঠিত হয়, আর এতেকাফ অবস্থায় রোজা রাখা সুন্নাত।’’ দ্বারা বুঝা গেলো এতেকাফ যে কোন সময় হতে পারে চাই তা একদিনের জন্য হোক অথবা তার চেয়ে কম সময়ের জন্য। উক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেলো শায়খ আলবানী নিজেই এতেকাফ তিন প্রকারের প্রবক্তা ছিলেন। তাহলে এখন থেকে যেন আহলে হাদীস ভাইগণ নিজ মন্তব্য ও মতামত পরিবর্তন করে সঠিক আকিদা গ্রহণ করে। ইরওয়াউল গালীল লিল আলবানী-৪/১৩৯। ❑ উল্লেখ্য যে মুজতাদের, ফুকাহা ও মুহাদ্দীসগণ, সহীহ বুখারীর প্রথম হাদীস ‘‘ সব আমলই নিয়তের উপর নির্ভরশীল’’ এর অনুসারে বলেন এতেকাফের মাঝে নিয়ত আবশ্যক। ░▒▓█► উক্ত মতবাদের ভাইদের প্রতি প্রশ্ন : আপনারা বলেন, এতেকাফ মাত্র এক প্রকার তা হলো মাহে রমজানের শেষ দশ দিন । এখন আসুন আপনারা নিন্ম হাদীসে বর্ণিত এতেকাফ কে কি নামে নাম করণ করবেন? ﺻﺤﻴﺢ ﺍﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ - ﻣﺤﻘﻘﺎ ‏(/8 423 ‏) 3664 - ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺴَّﺎﻣِﻲُّ، ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺣْﻤَﺪُ ﺑْﻦُ ﺣَﻨْﺒَﻞٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﻋَﺪِﻱٍّ، ﻋَﻦْ ﺣُﻤَﻴْﺪٍ ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻣُﻘِﻴﻤًﺎ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻟْﺄَﻭَﺍﺧِﺮَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺳَﺎﻓَﺮَ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻌَﺎﻡِ ﺍﻟْﻤُﻘْﺒِﻞِ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ‏(1 ‏) . __________ ‏( 1 ‏) ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ অর্থ : হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূল (সা.) মুকিম অবস্থায় মাহে রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন, আর যদি মুসাফির অবস্থায় থাকেন তাহলে পরবর্তী রমজানে বিশ দিন এতেকাফ করতেন। ইবনে হিব্বান-৮/৪২৩, হাদীস-৩৬৬৪। শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী উক্ত হাদীসকে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন। সিলসিলাতুস সহীহা-৩/৩৯৯, হাদীস-১৪১০। আল্লামা সাফরীনী আল হাম্বলী বলেন হাদীসটি হাসান। শারহু সোলাসিয়াতুল মুসনাদ-১/৬৩২। সব অবস্থায় হাদীসটি প্রমাণযোগ্য। ✏ এখন সালাফী ভাইদের প্রতি প্রশ্ন হলো ‘‘পরবর্তী রমজানে বিশ দিন এতেকাফ করতেন।’’ এটি কোন তরীকার এতেকাফ? জানিয়ে বাধিত করবেন। কেয়ামত পর্যন্ত সময় দেয়া হলো। চলবেই ইনশাআল্লাহ ✍ ইতি মুফতী মো. ছানা উল্লাহ

রচনা। নারী স্বাধীনতা। লেখক,মুফতী,মুফিদ। ☛একজন সুন্দরী মেয়েকে ঘর থেকে বাহির করে এনে দুই পুরুষের মাঝখানে রিক্সায় বসতে দেয়া কি নারী স্বাধীনতা ? ☛ বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল স্লোগান দিতে গিয়ে একজন পুরুষকে জড়িয়ে ধরে ফটোসেশন করা কি নারী স্বাধীনতা ? নারী পুরুষ অবাদ মেলামিশার নামিই কি নারী স্বাধীনতা। এক নারী অন্য নারীর সভ্রম হানি করার পাইতারা করাই কি নারীর স্বাধীনতা। স্বামী স্ত্রীর পরস্পরে বিশেষ করে স্ত্রী স্বামীরর কথাকে বা পরিবারের কথাকে নামানার নামিই কি নারী স্বাধীনতার অধিকার। নিজের সভ্রম কোন পর পুরুষের কাছে বিকিয়ে দেওয়ায় কি নারী স্বাধীনতা। নিজ সম্মানী অঙ্গ সমুহ কে নারীরা প্রকাশ করাই কি নারী স্বাধীনতা। তাহলেতো পুর্ব যোগের নারী পুরুষেরাই সর্বউচ্চময়ী স্বাধীনতাকামি আধুনিকতার অধীকারি ছিল কারন তাহারা উলঙ্গ থাকিত কোন পার্থক্য ছিলনা। ☛ বিলবোর্ড থেকে শুরু করে পণ্যের অ্যাডে নারীর দেহ উপস্থাপন করে পণ্যের মত নারীকে পণ্য বানিয়ে প্রোডাক্টের প্রচারণা চালানো কি নারী স্বাধীনতা ??? ☛ ঘর ফেলে শাহবাগে সারা রাত পুরুষদের সাথে রাত কাটানো কি নারী স্বাধীনতা!! ☛ সবচেয়ে বড় কথা যারা নারী স্বাধীনতা নিয়ে তাফালিং করে তাদের চারিত্রিক গুণাবলী দেখলেই বোঝা যায় তারা কেমন নারী স্বাধীনতা চাই !! ☛ পাগল নিজেও পাগলের সুখ বোঝে কিন্তু ( কথিত ) নারী বোঝে না তার প্রকৃত সম্মান- অধিকার-স্বাধীনতা ! ☛ আমার নারী বোনদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলে রাখিঃ "এরা যতোক্ষণ পর্যন্ত আপনার শরীরের ব্যবচ্ছেদ করতে পারবে না ততোক্ষণ পর্যন্ত এরা আপনার জন্য নারীবাদী। আর যখন আপনার শরীরের চামরা ভোঁতা হয়ে যাবে, আপনার রূপের বাহাদুরি হারিয়ে যাবে, তখন তারা আপনাকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিবে।" ☛ তাই, কথিত নারীবাদীরা যেন আমাদের ভুল বুঝিয়ে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে নিয়ে না যায় ৷ তারা চায়, আধুনিকতার নামে নারীদের সতীত্ব নষ্ট করতে । আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝ দান করুন। আমিন।

রবিবার, ২৪ মে, ২০১৫

৩১৩ বদরী সাহাবীর নাম। রাজিয়াল্লাহু আনহুওম ওয়ারাজু আনহু। ****************** যারা ভাগ্যবান তারাই পড়বেন , সেইভ করে রাখবেন ,প্রচার করবেন। মুহাজির সাহাবীঃ ------------ ১. হযরত আবু বকর (রাঃ) ২. হযরত উমর ফারুক (রাঃ) ৩. হযরত উসমান (রাঃ) ৪. হযরত আলী মোর্তাজা (রাঃ) ৫. হযরত হামজা (রাঃ) ৬. হযরত যায়েদ বিন হারেছা (রাঃ) ৭. হযরত আবু কাবশাহ সুলাইম (রাঃ) ৮. হযরত আবু মারছাদ গানাভী (রাঃ) ৯. হযরত মারছাদ বিন আবু মারছাদ (রাঃ) ১০. হযরত উবাইদা বিন হারেছ (রাঃ) ১১. হযরত তোফায়েল বিন হারেছ (রাঃ) ১২. হযরত হুসাইন বিন হারেছ (রাঃ) ১৩. হযরত আউফ বিন উসাসা (রাঃ) ১৪. হযরত আবু হুযায়ফা (রাঃ) ১৫. হযরত ছালেম (রাঃ) ১৬. হযরত সুহইব বিন সিনান (রাঃ) ১৭. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন জাহাশ (রাঃ) ১৮. হযরত উক্বাশা বিন মিহসান (রাঃ) ১৯. হযরত শুজা’ বিন ওহাব (রাঃ) ২০. হযরত ওতবা বিন রবীআহ (রাঃ) ২১. হযরত ইয়াযীদ বিন রুকাইশ (রাঃ) ২২. হযরত আবু সিনান (রাঃ) ২৩. হযরত সিনান বিন আবু সিনান (রাঃ) ২৪. হযরত মুহরিয বিন নাজলা (রাঃ) ২৫. হযরত রবীআ’ বিন আক্সাম (রাঃ) ২৬. হযরত হাতেব বিন আমর (রাঃ) ২৭. হযরত মালেক বিন আমর (রাঃ) ২৮. হযরত মিদ্লাজ বিন আমর (রাঃ) ২৯. হযরত সুওয়ায়েদ ইবনে মাখশী (রাঃ) ৩০. হযরত উৎবা বিন গাযওয়ান (রাঃ) ৩১. হযরত জুবাইর বিন আউওয়াম (রাঃ) ৩২. হযরত হাতেব বিন আবি বালতাআহ (রাঃ) ৩৩. হযরত সা’দ বিন খাওলা (রাঃ) ৩৪. হযরত মুসআব বিন উমায়ের (রাঃ) ৩৫. হযরত মাসউদ বিন সা’দ (রাঃ) ৩৬. হযরত আঃ রহমান বিন আউফ (রাঃ) ৩৭. হযরত সা’দ বিন আবু উবায়দা (রাঃ) ৩৮. হযরত উমায়ের বিন আবিওয়াক্কাস (রাঃ) ৩৯. হযরত মিক্বদাদ বিন আমর (রাঃ) ৪০. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাঃ) ৪১. হযরত মাসউদ বিন রাবীআ (রাঃ) ৪২. হযরত যুশ্ শিমালাইন (রাঃ) ৪৩. হযরত খাব্বাব বিন আরাত (রাঃ) ৪৪. হযরত বিলাল বিন রবাহ্ (রাঃ) ৪৫. হযরত আমের বিন ফুহায়রা (রাঃ) ৪৬. হযরত ছুহাইব বিন সিনান (রাঃ) ৪৭. হযরত তালহা বিন উবাইদুল্লাহ্ (রাঃ) ৪৮. হযরত আবু সালমা বিন আব্দুল আসাদ (রাঃ) ৪৯. হযরত শাম্মাস বিন উসমান (রাঃ) ৫০. হযরত আকরাম বিন আবুল আকরাম (রাঃ) ৫১. হযরত আম্মার বিন ইয়াছির (রাঃ) ৫২. হযরত মুআত্তিব বিন আউফ (রাঃ) ৫৩. হযরত যায়েদ ইবনে খাত্তাব (রাঃ) ৫৪. হযরত আমর বিন সুরাকা (রাঃ) ৫৫. হযরত ওয়াকেদ বিন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) ৫৬. হযরত খাওলা বিন আবু খাওলা (রাঃ) ৫৭. হযরত আমের বিন রবীআহ (রাঃ) ৫৮. হযরত আমের বিন হারিছ (রাঃ) ৫৯. হযরত আমের বিন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) ৬০. হযরত খালেদ বিন বুকাইর (রাঃ) ৬১. হযরত ইয়ায বিন গানাম (রাঃ) ৬২. হযরত সাঈদ বিন যায়েদ (রাঃ) ৬৩. হযরত উসমান বিন মাজউন (রাঃ) ৬৪. হযরত সাইব বিন উসমান (রাঃ) ৬৫. হযরত কুদামা বিন মাজউন (রাঃ) ৬৬. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাজউন (রাঃ) ৬৭. হযরত মা’মার বিন হারেছ (রাঃ) ৬৮. হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) ৬৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাখ্রামা (রাঃ) ৭০. হযরত খাব্বাব মাওলা উৎবা বিন গযওয়ান (রাঃ) ৭১. হযরত আবুস্ সাইব উসমান বিন মাজউন (রাঃ) ৭২. হযরত আমর বিন আবু সারাহ (রাঃ) ৭৩. হযরত সাকাফ বিন আমর (রাঃ) ৭৪. হযরত মুজায্যার বিন যিয়াদ (রাঃ) ৭৫. হযরত খাব্বাব ইবনুল মুনযির (রাঃ) ৭৬. হযরত উমায়ের বিন আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) ৭৭. হযরত মিকদাদ বিন আমর (রাঃ) ৭৮. হযরত নোমান বিন আসার বিন হারেস (রাঃ) ৭৯. হযরত মিহ্জা’ মাওলা উমর ফারুক (রাঃ) ৮০. হযরত ওহাব বিন আবী সারাহ (রাঃ আনসার সাহাবীঃ -------------- ৮১. হযরত সা’দ বিন মুআজ (রাঃ) ৮২. হযরত আমর বিন মুআজ (রাঃ) ৮৩. হযরত হারেস বিন আউস (রাঃ) ৮৪. হযরত হারেস বিন আনাস (রাঃ) ৮৫. হযরত আব্বাদ বিন বিশর (রাঃ) ৮৬. হযরত সালামা বিন সাবেত (রাঃ) ৮৭. হযরত হারেস বিন খাযামা (রাঃ) ৮৮. হযরত মুহাম্মদ বিন মাসলামা (রাঃ) ৮৯. হযরত সালামা বিন আসলাম (রাঃ) ৯০. হযরত উবায়েদ বিন তাইয়িহান (রাঃ) ৯১. হযরত কাতাদা বিন নোমান (রাঃ) ৯২. হযরত উবায়েদ বিন আউস (রাঃ) ৯৩. হযরত নসর বিন হারেস (রাঃ) ৯৪. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন তারেক (রাঃ) ৯৫. হযরত আবু আব্স বিন জব্র (রাঃ) ৯৬. হযরত আবু বুরদাহ্ হানী বিন নিয়্যার (রাঃ) ৯৭. হযরত আসেম বিন সাবেত (রাঃ) ৯৮. হযরত মুআত্তিব বিন কুশাইর (রাঃ) ৯৯. হযরত আমর বিন মা’বাদ (রাঃ) ১০০. হযরত সাহল বিন হুনাইফ (রাঃ) ১০১. হযরত মুবাশ্শির বিন আব্দুল মুনযির (রাঃ) ১০২. হযরত রিফাআ বিন আঃ মুনযির (রাঃ) ১০৩. হযরত খুনাইস বিন হুযাফা (রাঃ) ১০৪. হযরত আবু সাবরা কুরাইশী (রাঃ) ১০৫. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন সালামা (রাঃ) ১০৬. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন সুহাইল (রাঃ) ১০৭. হযরত সা’দ বিন মুআয (রাঃ) ১০৮. হযরত উমায়ের বিন আউফ (রাঃ) ১০৯. হযরত আমের বিন সালামা (রাঃ) ১১০. হযরত ছফওয়ান বিন ওহাব (রাঃ) ১১১. হযরত ইয়ায বিন বুকাইর (রাঃ) ১১২. হযরত সা’দ বিন উবায়েদ (রাঃ) ১১৩. হযরত উওয়াইম বিন সায়েদাহ (রাঃ) ১১৪. হযরত রাফে বিন আনজাদা (রাঃ) ১১৫. হযরত উবায়েদ বিন আবু উবয়েদ (রাঃ) ১১৬. হযরত সা’লাবা বিন হাতেব (রাঃ) ১১৭. হযরত আবু লুবাবাহ আব্দুল মুনযির (রাঃ) ১১৮. হযরত হারেস বিন হাতেব (রাঃ) ১১৯. হযরত আসেম বিন আদী (রাঃ) ১২০. হযরত আনাছ বিন কাতাদা (রাঃ) ১২১. হযরত মাআন বিন আদী (রাঃ) ১২২. হযরত সাবেত বিন আকরাম (রাঃ) ১২৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন ছাহল (রাঃ) ১২৪. হযরত যায়েদ বিন আসলাম (রাঃ) ১২৫. হযরত রিব্য়ী বিন রাফে’ (রাঃ) ১২৬. হযরত সা’দ বিন যায়েদ (রাঃ) ১২৭. হযরত সালমা বিন সালামা (রাঃ) ১২৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন যায়েদ (রাঃ) ১২৯. হযরত আসেম বিন কায়েস (রাঃ) ১৩০. হযরত আবুস্ সয়্যাহ বিন নোমান (রাঃ) ১৩১. হযরত আবু হাব্বাহ বিন আমর (রাঃ) ১৩২. হযরত হারেস বিন নোমান (রাঃ) ১৩৩. হযরত খাওয়াত বিন যুবাইর (রাঃ) ১৩৪. হযরত মুনযির বিন মুহাম্মদ (রাঃ) ১৩৫. হযরত আবু আকীল আব্দুর রহমান (রাঃ) ১৩৬. হযরত আবু দুজানা (রাঃ) ১৩৭. হযরত সা’দ বিন খায়সামা (রাঃ) ১৩৮. হযরত মুনযির বিন কুদামা (রাঃ) ১৩৯. হযরত মালেক বিন কুদামা (রাঃ) ১৪০. হযরত হারেস বিন আরফাজা (রাঃ) ১৪১. হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) ১৪২. হযরত মালেক বিন নুমায়লা (রাঃ) ১৪৩. হযরত খারেজা বিন যায়েদ (রাঃ) ১৪৪. হযরত সা’দ বিন রবী’ (রাঃ) ১৪৫. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন রাওয়াহা (রাঃ) ১৪৬. হযরত বশির বিন সা’দ (রাঃ) ১৪৭. হযরত সিমাক বিন সা’দ (রাঃ) ১৪৮. হযরত সুবাঈ বিন কায়েস (রাঃ) ১৪৯. হযরত আব্বাদ বিন কায়েস (রাঃ) ১৫০. হযরত ইয়াযিদ বিন হারেস (রাঃ) ১৫১. হযরত খোবায়ের বিন য়াসাফ (রাঃ) ১৫২. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন কায়েস (রাঃ) ১৫৩. হযরত হারিস বিন যিয়াদ (রাঃ) ১৫৪. হযরত তামীম বিন য়াআর (রাঃ) ১৫৫. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন উমায়ের (রাঃ) ১৫৬. হযরত যায়েদ বিন মুযাইন (রাঃ) ১৫৭. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন উরফুতাহ্ (রাঃ) ১৫৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন রবী’ (রাঃ) ১৫৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) ১৬০. হযরত আউস বিন খাওলা (রাঃ) ১৬১. হযরত যায়েদ বিন উবায়েদ (রাঃ) ১৬২. হযরত উকবাহ বিন ওহাব (রাঃ) ১৬৩. হযরত রিফাআহ বিন আমর (রাঃ) ১৬৪. হযরত উসায়ের বিন আসর (রাঃ) ১৬৫. হযরত মা’বাদ বিন আব্বাদ (রাঃ) ১৬৬. হযরত আমের বিন বুকাইর (রাঃ) ১৬৭. হযরত নওফল বিন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) ১৬৮. হযরত উবাদা বিন সামেত (রাঃ) ১৬৯. হযরত নোমান বিন মালেক (রাঃ) ১৭০. হযরত সাবেত বিন হায্যাল (রাঃ) ১৭১. হযরত মালেক বিন দুখশুম (রাঃ) ১৭২. হযরত রবী’ বিন ইয়াছ (রাঃ) ১৭৩. হযরত ওয়ারাকা বিন ইয়াছ (রাঃ) ১৭৪. হযরত আমর বিন ইয়াছ (রাঃ) ১৭৫. হযরত আমর বিন কয়েস (রাঃ) ১৭৬. হযরত ফাকেহ বিন বিশ্র (রাঃ) ১৭৭. হযরত নওফল বিন সা’লাবা (রাঃ) ১৭৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন সা’লাবা (রাঃ) ১৭৯. হযরত মুনযির বিন আমর (রাঃ) ১৮০. হযরত আবু উসায়েদ মালেক (রাঃ) ১৮১. হযরত মালেক বিন মাসউদ (রাঃ) ১৮২. হযরত আবদে রাব্বিহি (রাঃ) ১৮৩. হযরত কা’ব বিন জাম্মায (রাঃ) ১৮৪. হযরত জমরাহ বিন আমর (রাঃ) ১৮৫. হযরত যিয়াদ বিন আমর (রাঃ) ১৮৬. হযরত হুবাব বিন মুনযির (রাঃ) ১৮৭. হযরত উমায়ের বিন হারাম (রাঃ) ১৮৮. হযরত উমায়ের বিন হুমাম (রাঃ) ১৮৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আমর (রাঃ) ১৯০. হযরত মুআজ বিন আমর (রাঃ) ১৯১. হযরত মুআউওয়াজ বিন আমর (রাঃ) ১৯২. হযরত খাল্লাদ বিন আমর (রাঃ) ১৯৩. হযরত উকবাহ্ বিন আমের (রাঃ) ১৯৪. হযরত সাবেত বিন খালেদ (রাঃ) ১৯৫. হযরত বিশ্র বিন বারা (রাঃ) ১৯৬. হযরত তোফায়েল বিন মালেক (রাঃ) ১৯৭. হযরত তোফায়েল বিন নোমান (রাঃ) ১৯৮. হযরত সিনান বিন সাঈফী (রাঃ) ১৯৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন জাদ (রাঃ) ২০০. হযরত উৎবা বিন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) ২০১. হযরত জাব্বার বিন সাখর (রাঃ) ২০২. হযরত খারেজা বিন হিময়ার (রাঃ) ২০৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন হুমায়্যির (রাঃ) ২০৪. হযরত ইয়াযিদ বিন মুনযির (রাঃ) ২০৫. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন নোমান (রাঃ) ২০৬. হযরত জহহাক বিন হারেসা (রাঃ) ২০৭. হযরত আসওয়াদ বিন যুরাইক (রাঃ) ২০৮. হযরত মা’বাদ বিন কায়েস (রাঃ) ২০৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন কায়েস খালেদ (রাঃ) ২১০. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আব্দে মানাফ্ (রাঃ) ২১১. হযরত খালিদ বিন কায়েস (রাঃ) ২১২. হযরত সুলাইম বিন আমর (রাঃ) ২১৩. হযরত কুতবা বিন আমের (রাঃ) ২১৪. হযরত আন্তারা মাওলা বনী সুলাইম (রাঃ) ২১৫. হযরত আব্স বিন আমের (রাঃ) ২১৬. হযরত সা’লাবা বিন আনামা (রাঃ) ২১৭. হযরত আবুল য়াসার বিন আমর (রাঃ) ২১৮. হযরত উবাদা বিন কয়েস (রাঃ) ২১৯. হযরত আমর বিন তাল্ক (রাঃ) ২২০. হযরত মুআজ বিন জাবাল (রাঃ) ২২১. হযরত কয়েস বিন মুহ্সান (রাঃ) ২২২. হযরত হারেস বিন কয়েস (রাঃ) ২২৩. হযরত সা’দ বিন উসমান (রাঃ) ২২৪. হযরত উকবা বিন উসমান (রাঃ) ২২৫. হযরত জাকওয়ান বিন আবদে কয়েস (রাঃ) ২২৬. হযরত মুআজ বিন মায়েস (রাঃ) ২২৭. হযরত আয়েজ বিন মায়েজ (রাঃ) ২২৮. হযরত মাসউদ বিন সা’দ (রাঃ) ২২৯. হযরত রিফাআ বিন রাফে’ (রাঃ) ২৩০. হযরত খাল্লাদ বিন রাফে’ (রাঃ) ২৩১. হযরত উবায়েদ বিন যায়েদ (রাঃ) ২৩২. হযরত যিয়াদ বিন লাবীদ (রাঃ) ২৩৩. হযরত ফারওয়াহ বিন আমর (রাঃ) ২৩৪. হযরত আতিয়্যা বিন নুওয়াইরা (রাঃ) ২৩৫. হযরত খলিফা বিন আদী (রাঃ) ২৩৬. হযরত উমারা বিন হায্ম (রাঃ) ২৩৭. হযরত সুরাকা বিন কা’ব (রাঃ) ২৩৮. হযরত হারেসা বিন নোমান (রাঃ) ২৩৯. হযরত সুলাইম বিন কয়েস (রাঃ) ২৪০. হযরত সুহাইল বিন কয়েস (রাঃ) ২৪১. হযরত আদী বিন আবুয্ যাগ্বা (রাঃ) ২৪২. হযরত মাসউদ বিন আউস (রাঃ) ২৪৩. হযরত আবু খুজাইমাহ্ বিন আউস (রাঃ) ২৪৪. হযরত রাফে’ বিন হারেস (রাঃ) ২৪৫. হযরত মুআওয়াজ বিন হারেস (রাঃ) ২৪৬. হযরত নোমান বিন আমর (রাঃ) ২৪৭. হযরত আমের বিন মুখাল্লাদ (রাঃ) ২৪৮. হযরত উসাইমা আশযায়ী (রাঃ) ২৪৯. হযরত ওদীআহ বিন আমর (রাঃ) ২৫০. হযরত আবুল হামরা মাওলা হারেস (রাঃ) ২৫১. হযরত সা’লাবা বিন আমর (রাঃ) ২৫২. হযরত সুহাইল বিন আতীক (রাঃ) ২৫৩. হযরত হারেস বিন আতীক (রাঃ) ২৫৪. হযরত হারেস বিন ছিম্মাহ (রাঃ) ২৫৫. হযরত উবাই বিন কা’ব (রাঃ) ২৫৬. হযরত আনাস বিন মুআজ (রাঃ)] ২৫৭. হযরত আউস বিন সামেত (রাঃ) ২৫৮. হযরত আবু তাল্হা যায়েদ বিন ছাহল (রাঃ) ২৫৯. হযরত হারেসা বিন সুরাকা (রাঃ) ২৬০. হযরত আমর বিন সা’লাবা (রাঃ) ২৬১. হযরত সাবেত বিন খানছা (রাঃ) ২৬২. হযরত আমের বিন উমাইয়াহ্ (রাঃ) ২৬৩. হযরত মুহ্রিয বিন আমের (রাঃ) ২৬৪. হযরত সাওয়াদ বিন গাযিয়্যাহ (রাঃ) ২৬৫. হযরত আবু যায়েদ কয়েস বিন সাকান (রাঃ) ২৬৬. হযরত আবুল আওয়ার বিন হারেস (রাঃ) ২৬৭. হযরত হারাম বিন মিল্হান (রাঃ) ২৬৮. হযরত কয়েস বিন আবী সা’সা (রাঃ) ২৬৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন কা’ব (রাঃ) ২৭০. হযরত উসাইমা আসাদী (রাঃ) ২৭১. হযরত আবু দাউদ উমাইর (রাঃ) ২৭২. হযরত সুরাকা বিন আমর (রাঃ) ২৭৩. হযরত কয়েস বিন মাখলাদ (রাঃ) ২৭৪. হযরত নোমান বিন আব্দে আমর (রাঃ) ২৭৫. হযরত জহ্হাক বিন আব্দে আমর (রাঃ) ২৭৬. হযরত সুলাইম বিন হারেস (রাঃ) ২৭৭. হযরত জাবের বিন খালেদ (রাঃ) ২৭৮. হযরত সা’দ বিন সুহাইল (রাঃ) ২৭৯. হযরত কা’ব বিন যায়েদ (রাঃ) ২৮০. হযরত বুজাইর বিন আবি বুজাইর (রাঃ) ২৮১. হযরত ইৎবান বিন মালেক (রাঃ) ২৮২. হযরত মুলাইল বিন ওবারাহ (রাঃ) ২৮৩. হযরত হেলাল বিন মুআল্লাহ (রাঃ) ২৮৪. হযরত আনাছাহ আল হাবাশী (রাঃ) ২৮৫. হযরত বাহ্হাস বিন সালাবা (রাঃ) ২৮৬. হযরত জাব্র বিন আতীক (রাঃ) ২৮৭. হযরত আবু আয়্যুব আনছারী (রাঃ) ২৮৮. হযরত খিরাশ ইবনুস সিম্মাহ (রাঃ) ২৮৯. হযরত খুরাইম বিন ফাতেক (রাঃ) ২৯০. হযরত খুবাইব বিন ইছাফ (রাঃ) ২৯১. হযরত খুবাইব বিন আদী (রাঃ) ২৯২. হযরত খিদাশ বিন কাতাদা (রাঃ) ২৯৩. হযরত খালেদ বিন সুওয়াইদ (রাঃ) ২৯৪. হযরত রাফে’ বিন আল মুআল্লা (রাঃ) ২৯৫. হযরত রুখায়লা বিন সা’লাবা (রাঃ) ২৯৬. হযরত সাব্রা বিন ফাতেক (রাঃ) ২৯৭. হযরত সুহাইল বিন রাফে’ (রাঃ) ২৯৮. হযরত সুওয়াইবিত বিন হারমালা (রাঃ) ২৯৯. হযরত তুলাইব বিন উমাইর (রাঃ) ৩০০. হযরত উবাদা বিন খাশখাশ কুজায়ী (রাঃ) ৩০১. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন জুবাইর বিন নোমান (রাঃ) ৩০২. হযরত আবু সালামা বিন আব্দুল আসাদ (রাঃ) ৩০৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আব্স (রাঃ) ৩০৪. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন উনায়েছ (রাঃ) ৩০৫. হযরত উবাইদ বিন সা’লাবা (রাঃ) ৩০৬. হযরত উমায়ের বিন নিয়ার (রাঃ) ৩০৭. হযরত মালেক বিন আবী খাওলা (রাঃ) ৩০৮. হযরত মালেক বিন কুদামা (রাঃ) ৩০৯. হযরত মুরারা বিন রবী’ (রাঃ) ৩১০. হযরত মাসউদ বিন খাল্দাহ (রাঃ) ৩১১. হযরত মুআজ বিন হারেস (রাঃ) ৩১২. হযরত মা’কিল বিন আলমুনযির (রাঃ) ৩১৩. হযরত নোমান বিন আছার বিন হারেছ (রাঃ)

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০১৫

সত্যকথা সত্যপথের দিশারি। ★★★★★★★★★★★ এম সাইফুল ইসলাম খাঁন। ডাঃ জকির নায়েক বলেছেন। Our prophet was a muslim। আমাদের নবীএকজন মুসলিম ছিলেন। আমাদের প্রিয় নবী কী ছিলেন? তিনি কি হানাফী? শাফেয়ী? মালেকী? হাম্বলী ছিলেন? না। তিনি মুসলিম ছিলেন। যেমন পূর্ববর্তী নবীগণ মুসলিম ছিলেন। বিজ্ঞ পাঠক! একটু লক্ষ করুণ! ডাঃজাকির নায়েক প্রশ্ন করেছেন। আমাদের নবী কী ছিলেন? তিনি কী হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী , হাম্বলী ছিলেন? তিনি ছিলেন, মুসলমান। আমাদের প্রথম প্রশ্ন হল, নবীজী মুসলমান ছিলেন। তবে কী হানাফী, শাফেয়ী এরা কী মুসলমান নয়? হানাফী , শাফেয়ী... ইত্যাদি এবং মুসলমান হওয়ার মাঝে কোন Contradictionআছে কী? আমরা যদি ডাঃ জাকির নায়েককে জিজ্ঞেস করি, আপনার পিতা কে? তখন কী বলবেন?? তাঁর পিতার নাম বলবেন। সহজ ব্যাপার। এখন নিচের আয়াতটি লক্ষ করুণ! আল্লাহ পাক বলেছেন, ﻣِﻠَّﺔ ﺃﺑﻴﻜﻢ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ তোমাদের পিতা ইবরাহিমের ধর্ম। কুরআনে বলছে, ডাঃ জাকির নায়েকের পিতা ইবরাহিম। রাসূল (সঃ) বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে বলেছেন, ﻳﺎ ﺃﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ ! ﺇﻥ ﺭﺑﻜﻢ ﻭ ﺍﺣﺪ ﻭ ﺃﻥ ﺃﺑﺎﻛﻢ ﻭﺍﺣﺪ، ﻛﻠﻢ ﻵﺩﻡ ﻭ ﺁﺩﻡ ﻣﻦ ﺗﺮﺍﺏ “হে মানব সকল! তোমাদের প্রভূ এক, তোমাদের পিতা এক। তোমরা সকলেই আদমের সন্তান।” এ হাদীস থেকে বোঝা গেল, সকলের পিতা একজন। তিনি হলেন হযরত আদম (আঃ) এখন কেউ যদি ডক্টর জাকির নায়েককে প্রশ্ন করে, তোমার পিতা কয়জন? তুমি করিমের ছেলে, তুমি ইবরাহিমের ছেলে, তুমি আদমের ছেলে, তোমার পিতা কয়জন? এ প্রশ্ন করে কেউ যদি উপসংহারে পৌঁছে, তবে? যার অনেক বাপ থাকে, সেই উপসংহার যদি টানে? মাযহাবের বিষয়ে ডাক্তার জাকির নায়েক যেভাবে খুব সহজে উপসংহারে পৌঁছে গেলেন, “আমাদের নবীজী মুসলমান ছিলেন, হানাফী, শাফেয়ী ছিলেন না” তবে কি হানাফী, শাফেয়ী সবাই কি অমুসলিম? নাউযুবিল্লাহ। একজন নিরেট মূর্খ লোকের কাছ থেকে যদি এ প্রশ্নটি হত, তবে আমাদের কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু ডাঃ জাকির নায়েকের মত জ্ঞানী লোক যদি এধরণের কথা বলেন, তবে অবশ্যই সেটা আপত্তিকর। এখন কোন শ্রোতা যদি তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনার বাপ কয়জন, আদমের ছেলে, ইবরাহিমের ছেলে আবার আব্দুর রহিমের ছেলে? তিনি কী উত্তর দিবেন? তিনি হয়ত, বলবেন, দেখুন! তিনজনই আমার পিতা। এদের মধ্যে কোন বিস্তর. তফাৎ নেই। হযরত আদম (আঃ) হলেন, আমাদের আদি পিতা। হযরত ইবরাহিম (আঃ) আমাদের ধর্মীয় পিতা। আমার জন্মসূত্রে পিতা হলেন, আব্দুর রহিম। এদের মধ্যে কোন বৈপরিত্ত নেই। তবে এক্ষেত্রে তিনি কেন হানাফী, শাফেয়ী এগুলোর মাঝে এবং মুসলমান হওয়ার মাঝে কিসের এতো বিস্তর তফাৎ খুঁজে পেলেন ??? তবে তার মতে, শাফেয়ী, হানাফী, মালেকী, আহলে হাদীস, সালাফী, তাবলীগী, জামাতী এরা মুসলমান নয় (নাউযুবিল্লাহ) ২. আমরা পূর্বে বনী কুরায়যার ঘটনা উল্লেখ করেছি। একদল সাহাবীকে রাসূল (সঃ) বলেছেন, তোমরা বনী কুরায়য়াতে না পৌঁছে নামায পড়বে না। পথিমধ্যে আসরের ওয়াক্ত হওয়ায় একদল সাহাবী পথেই নামায পড়ে নিলেন। আরেকদল সাহাবী বললেন, আল্লাহর রাসূল আমাদেরকে বনী কুরায়যাতে না পৌঁছে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। সুতরাং তারা সন্ধার পরে বনী কুরায়যাতে পৌঁছে আসরের নামায পড়ে। এখন রাসূল (সঃ) নিকট এ ঘটনা বর্ণনা করা হলে, তিনি কাউকেই কিছু বললেন না। এখন আমাদের প্রশ্ন হল, রাসূল কোন পক্ষে ছিলেন? যারা পথে নামায পড়েছেন, তাদের পক্ষে? না কি যারা বনী কুরায়যাতে পৌঁছে নামায পড়েছে। রাসূল কোন দলে ছিলেন? রাসূল “মুসলমান” হয়ে কোন দলে ছিলেন? ৩. রাসূলের ইন্তেকালের পর বিভিন্ন ধরণের মাসআলা মাসাইলের ক্ষেত্রে যেমন, হযরত আবু বকর ও হযরত উমর কিংবা হযরত আলী কিংবা উমরের মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে। এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে, রাসূল কোন দলে ছিলেন, উমরের না আবু বকরের? আলীর পক্ষে না উমরের পক্ষে? এধরণের অযৌক্তিক প্রশ্ন করে, মাযহাবের বিরুদ্ধে মানুষের মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে ইসলাম ও মুসলমানদের লাভ কী??? … … আবার ধরুণ! ডাঃ জাকির নায়েকের একজন শ্রোতা তকে প্রশ্নোত্তর পর্বে কোন মাসআলার সমাধান চাইল। জাকির নায়েক তাকে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে মাসআলার সমাধান দিল। সাধারণতঃ তিনি বিভিন্ন ধরণের এধরণের সমাধান দিয়ে থাকেন (?) প্রশ্নকারী লোকটি জাকির নায়েকের দেয়া মাসআলার উপর আমল করা শুরু করল। এখন তৃতীয় কেউ যদি তাকে এসে বলে, তুমি জাকির নায়েকী, নাকি মুসলমান? তুমি মুসলমান না কি জাকির নায়েকের পক্ষে? এখানে জাকির নায়েক যদি কুরআন ও সুন্নাহ সমাধান দিয়ে থাকেন, তবে এখানে কেউ কি বলবে, তুমি ইসলাম ছেড়ে জাকির নায়েকে ধর্মে চলে গেছো?? তুমি মুসলমান না কি জাকির নায়েকী?? ডাঃ জাকির নায়েক বলেছেন, আমাদের নবী মুসলমান ছিলেন। আমরা বলব, তিনি শুধুই মুসলমানই ছিলেন না, সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলমান ছিলেন। আমরা তাঁর অনুসারী হয়ে, তাঁর উম্মত হয়ে আল- হামদুলিল্লাহ, সুম্মা আল-হামদুলিল্লাহ আমরা মুসলমান। কিন্তু রাসূল কি শুধুই মুসলমান ছিলেন নাকি তাঁর আরও লেবেল ছিল? ১/রাসূল মু’মিন ছিলেন ২/রাসূল (সঃ)এর বড় লেবেল ছিল, তিনি রাসূলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল ছিলেন। ৩/মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহর নবী ছিলেন। ৪. মুহাম্মদ (সঃ) “রাহমাতুল্লিল আলামিন” উভয় জাহানের জন্য রহমত ছিলেন। ৫. মুহাম্মদ (সঃ) কুরায়শী ছিলেন। ৬. মুহাম্মাদ (সঃ) মুহাজির (আল্লাহর পথে হিজরতকারী ) ছিলেন। ৭. মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহর পথের মুজাহিদ ছিলেন। ৮. মুহাম্মাদ (সঃ) বাশির (সুসংবাদ দাতা) নাযীর (ভীতি প্রদর্শনকারী), সিরাজাম মুনীরা (উজ্জ্বল আলোক বর্তিকা) ছিলেন। সংক্ষেপে এগুলো আমরা উল্লেখ করলাম। এখন প্রশ্ন হল, রাসূলের লেবেল মুসলমান ছিল একথা সত্য, কিন্তু তার অর্থ কী এই যে, তার লেবেল রাসূল ছিল না (নাউযুবিল্লাহ) রাসূল (সঃ) মুহাজির ছিলেন, তাঁর অর্থ কি এই যে, তিনি মুসলমান ছিলেন না? (নাউযুবিল্লাহ) হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) এর লেবেল কতগুলো ছিল? তিনি- ১. মুসলমান ছিলেন। ২. কুরায়শী ছিলেন। ৩. খলিফাতুল মুসলিমীন ছিলেন। ৪. তিনি মুহাজির ছিলেন। কোথাও তো কেউ এ প্রশ্ন উত্থাপন করে নি যে, তিনি মুসলমান ছিলেন না কি খলিফাতুল মুসলিমীন ছিলেন। হযরত উমর (রাঃ) মুসলমান ছিলেন, না কি আমীরুল মু’মিনীন ছিলেন? ডাঃ জাকির নায়েক কি এক্ষেত্রেও প্রশ্ন উত্থাপন করবেন যে, তিনি মুসলমান না কি আমিরুল মু’মিনীন? এক্ষেত্রে যদি প্রশ্ন না আসে তবে, মাযহাবের ক্ষেত্রে কেন এ প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, তুমি হানাফী না কি মুসলমান???

রচনা। তাকলীদ তথা মাজহাব মানিতেই হবে। ★★★ তাকলীদ করা ওয়াজিব কিভাবে? তাকলীদ যে ওয়াজিব, এটা কুরআনের আয়াত, সহীহ হাদীছ, উম্মতের কর্মপন্থা ও তাফসীরকারকদের উক্তি সমূহ থেকে প্রমাণিত। সাধারণ তাকলীদ হোক বা মুজতাহিদের তাকলীদ হোক উভয়ের প্রমাণ মওজুদ রয়েছে। (নিম্নে ওগুলো উপস্থাপন করা হল।) (১) ﺍِﻫْﺪِ ﻧَﺎﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁَ ﺍﻟْﻤُﺴْﺘَﻘِﻴْﻢَ- ﺻِﺮَﺍﻁَ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺍَﻧْﻌَﻤْﺖَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ অর্থাৎ আমাদেরকে সোজা পথে পরিচালিত কর। ওনাদের পথে যাঁদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। এখানে সোজা পথ বলতে ওই পথকে বোঝানো হয়েছে, যে পথে আল্লাহর নেক বান্দাগণ চলেছেন। সমস্ত তাফসীর কারক, মুহাদ্দিছ, ফিকহবিদ ওলীউল্লাহ গাউছ কুতুব ও আবদাল হচ্ছেন আল্লাহর নেক বান্দা। তারা সকলেই মুকাল্লিদ বা অনুসারী ছিলেন। সুতরাং তাকলীদই হলো সোজা পথ। কোন মুহাদ্দিছ, মুফাসসির ও ওলী লা-মাযহাবী ছিলেন না। লা-মাযহাবী হলো ঐ ব্যক্তি যে মুজতাহিদ না হয়েও কারো অনুসারী নয়। অবশ্য মুজতাহিদ হয়ে কারো অনুসরণ না করলে তাকে লা- মাযহাবী বলা যাবে না। কেননা মুজতাহিদের জন্য তাকলীদ নিষিদ্ধ। (২) ﻟَﺎﻳُﻜَﻠِّﻒُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻧَﻔْﺴًﺎ ﺍِﻟَّﺎ ﻭُﺳْﻌَﻬَﺎ (আল্লাহ তা’আলা কারো উপর ক্ষমতার অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পন করেন না) এ আয়াত থেকে বোঝা গেল, আল্লাহ তা’আলা কারো উপর সাধ্যাতীত কার্যভার চাপিয়ে দেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করতে পারে না, কুরআন থেকে মাসাইল বের করতে পারে না, তার দ্বারা তাকলীদ না করিয়ে প্রয়োজনী সমস্যার সমাধান বের করানো তার উপর ক্ষমতা বহির্ভূত কার্যভার চাপানোর নামান্তর। যখন গরীবের উপর যাকাত ও হজ্জ ফরয নয়, তখন অজ্ঞ লোকের মাসাইল বের করার কোন প্রয়োজন থাকতে পারে কি? (৩) ﻭَﺍﻟﺴَّﺎﺑِﻘُﻮْﻥَ ﺍﻟْﺎَﻭَّﻟُﻮْﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﻬَﺎﺟِﺮِﻳْﻦَ ﻭَﺍﻟْﺎَﻧْﺼَﺎﺭِ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺍﺗَّﺒِﻌُﻬُﻢْ ﺑِﺎِﺣْﺴَﺎﻥٍ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻭَﺭَﺿُﻮْﺍﻋَﻨْﻪُ (যে সকল মুহাজির এবং আনসার অগ্রগামি যারা প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পথে অগ্রসর হয়েছেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে যারা সৎ উদ্দেশ্যে পূর্ববর্তীদের অনুগামী হয়েছেন, আল্লাহ তা’আলা তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তার (আল্লাহর) প্রতি সন্তুষ্ট।) বোঝা গেল যে, যারা মুহাজির ও আনসারগণের অনুসরণ বা তাকলীদ করেন, আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট। এখানেও তাকলীদের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। (৪) ﺍَﻃِﻴْﻌُﻮﺍ ﻟﻠﻪَ ﻭَﺍَﻃِﻴْﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝَ ﻭَﺍُﻭﻟِﻰ ﺍﻟْﺎَﻣْﺮِ ﻣِﻨْﻜُﻢْ (আল্লাহর আনুগত্য কর, তাঁর রসুলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা আদেশ প্রদানকারী রয়েছে, তাদেরও।) এ আয়াতে তিনটি সত্বার আনুগত্যের নির্দেশ দেয়া হয়েছে- (১) আল্লাহর (কুরআনের) আনুগত্য, (২) রসুলের (হাদীছের) আনুগত্য এবং (৩) আদেশ দাতাগণের (ফিকহাবিদ মুজতাহিদ আলিমগণ) আনুগত্য। লক্ষ্যণীয় যে, উক্ত আয়াতে- ﺍَﻃِﻴْﻌُﻮْﺍ (আতীউ) শব্দটি দু’বার ব্যবহৃত হয়েছে আল্লাহর জন্য একবার এবং রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ও আদেশ প্রদানকারীদের জন্য একবার। এর রহস্য হলো আল্লাহ যা হুকুম করবেন, শুধু তাই পালন করা হবে, তার কর্ম কিংবা নীরবতার ক্ষেত্রে আনুগত্য করা যাবে না। তিনি কাফিরদেরকে আহার দেন, কখনও কখনও তাদেরকে বাহ্যিকভাবে যুদ্ধে জয়ী করান। তারা কুফরী করলেও সাথে সাথে শাস্তি দেন না। এ সব ব্যাপারে আমরা আল্লাহকে অনুসরণ করতে পারি না। কেননা এতে কাফিরদেরকে সাহায্য করা হয়। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ও মুজতাহিদ ইমামের প্রত্যেকটি হুকুমে, প্রত্যেকটি কাজে, এমন কি যে সমস্ত ক্ষেত্রে তাঁরা নীরবতা অবলম্বন করেন, সে সমস্ত ক্ষেত্রেও তাদের আনুগত্য করা যায়। এ পার্থক্যের জন্য ﺍَﻃِﻴْﻌُﻮْﺍ শব্দটি দু’বার ব্যবহৃত হয়েছে। যদি কেউ বলে ﺍُﻭْﻟِﻰ ﺍﻟْﺎَﻣْﺮِ (উলীল আমর) দ্বারা ইসলামী শাসন কর্তাকে বোঝানো হয়েছে, এতে উপরোক্ত বক্তব্যে কোন রূপ তারতম্য ঘটবে না। কেননা শুধু শরীয়ত সম্মত নির্দেশাবলীতেই শাসনকর্তার আনুগত্য করা হবে, শরীয়ত বিরোধী নির্দেশাবলীর ক্ষেত্রে আনুগত্য করা হবে না। ইসলামী শাসনকর্তা হচ্ছেন কেবল হুকুম প্রয়োগকারী। তাঁকে শরীয়তের যাবতীয় আহকাম মুজতাহিদ আলিমগণের নিকট থেকে জেনে নিতে হবে। দেখা যাচ্ছে, আসল আদেশ প্রদানকারী হচ্ছেন ফিকহবিদ। ইসলামী সুলতান ফিকহবিদ আলিমের বর্ণিত অনুশাসন জারী করেন মাত্র। সমস্ত প্রজাদের হাকিম বাদশাহ হলেও বাদশাহের হাকিম হচ্ছেন মুজতাহিদ আলিম। শেষ পর্যন্ত ﺍُﻭْﻟِﻰ ﺍﻟْﺎَﻣْﺮِ (উলিল আমর) হলেন মুজতাহিদ আলিমগণই। ﺍُﻭْﻟِﻰ ﺍﻟْﺎَﻣْﺮِ (উলীল আমর) বলতে যদি কেবল ইসলামী বাদশাহ ধরে নেয়া হয়, তাতেও তাকলীদ প্রমাণিত হয়। আলিমের না হলেও অন্ততঃ বাদশাহের তাকলীদতো প্রমাণিত হয়। মনে রাখতে হবে যে, এ আয়াতে আনুগত্য বলতে শরীয়তের আনুগত্য বোঝানো হয়েছে। এ আয়াতে এ বিষয়ের প্রতিও পরোক্ষ ইঙ্গিত রয়েছে যে অনুশাসন তিন রকমের আছে, কতগুলো সরাসরি কুরআন থেকে সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত। যেমন অন্তঃসত্ত্বা নয়, এমন মহিলার স্বামী মারা গেলে, তাকে চার মাস দশদিন ‘ইদ্দত’ পালন করতে হয়, এদের প্রতি আল্লার নির্দেশ ﺍَﻃِﻴْﻌُﻮْﺍ ﺍﻟﻠﻪَ (আতীউল্লাহ) থেকে এ অনুশাসন গৃহীত হয়েছে। আর কতগুলো অনুশাসন সরাসরি হাদীছ থেকে স্পষ্টরূপে প্রমাণিত। উদাহরণ স্বরূপ, সোনা-রূপা নির্মিত অলংকার ব্যবহার পুরুষের জন্য হারাম। এ ধরনের অনুশাসন মেনে চলার জন্য ﺍَﻃِﻴْﻌُﻮْﺍ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝُ (আতীউর রসুল) বলা হয়েছে। আর কতকগুলো অনুশাসন আছে যেগুলো স্পষ্টভাবে কুরআন বা হাদীছ থেকে প্রতীয়মান হয় না। যেমন স্ত্রীর সঙ্গে পায়ুকামে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারটি অকাট্যভাবে হারাম হওয়ার বিধান। এ ধরনের অনুশাসন মেনে চলার জন্য ﺍُﻭْﻟِﻰ ﺍﻟْﺎَﻣْﺮِ ﻣِﻨْﻜُﻢْ (উলীল আমরে মিনকুম) বলা হয়েছে। এ তিন রকম শরীয়ত বিধির জন্য তিনটি আদেশ দেয়া হয়েছে। (৫) ﻓَﺎﺳﻠُﻮْﺍ ﺍَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺍِﻥْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﻟَﺎ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮْﻥَ (হে লোক সকল! তোমাদের যদি জ্ঞান না থাকে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর।) এ আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, যে বিষয়ে অবহিত নয়, সে যেন সে বিষয়ে জ্ঞানীদের নিকট থেকে জেনে নেয়। যে সব গবেষণালব্ধ মাসাইল বের করার ক্ষমতা আমাদের নেই, ঐগুলো মুজতাহিদগনের নিকট থেকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে হবে। কেউ কেউ বলেন যে, এ আয়াতে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী জেনে নেয়ার কথাই ব্যক্ত করা হয়েছে, এর পূর্ববর্তী আয়াত থেকেও এটাই প্রতীয়মান হয়। কিন্তু এ ধারণা সঠিক নয়। কেননা এ আয়াতের শব্দগুলো বিশেষিত বা শর্তযুক্ত নয়। আর না জানাটাই হলো জিজ্ঞাসা করার মূল কারণ। সুতরাং যে বিষয়ে আমরা জানি না, সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা একান্ত প্রয়োজন। (৬) ﻭَﺍﺗَّﺒِﻊْ ﺳَﺒِﻴْﻞَ ﻣَﻦْ ﺍَﻧَﺎﺏَ ﺍِﻟَﻰَّ (যিনি আমার দিকে (আল্লাহর দিকে) রুজু করেছেন তার পদাঙ্ক অনুসরন কর।) এ আয়াত থেকে এও জানা গেল যে আল্লাহর দিকে ধাবিত ব্যক্তিবর্গের অনুসরণ (তাকলীদ) করা আবশ্যক। এ হুকুমটাও ব্যাপক, কেননা আয়াতের মধ্যে বিশেষত্ব জ্ঞাপক কোন কিছুর উল্লেখ নেই। (৭) ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻳَﻘُﻮْﻟُﻮْﻥَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐْ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺍَﺯْﻭَﺍﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺎﺗِﻦَﺍ ﻗُﺮَّﺓَ ﺍَﻋْﻴُﻦٍ ﻭﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴْﻦَ ﺍِﻣَﺎﻣًﺎ এবং তাঁরা আরয করেন- হে আমাদের প্রভু! আমাদের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের দ্বারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দাও এবং আমাদেরকে পরহেযগারদের ইমাম বানিয়ে দাও। ‘তাফসীরে মাআলিমুত তানযীলে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে। ﻓَﻨَﻘْﺘَﺪِﻯْ ﺑِﺎﻟْﻤُﺘَّﻘِﻴْﻦَ ﻭَﻳَﻘْﺘَﺪِﻯ ﺑِﻨَﺎ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘُﻮْﻥَ অর্থাৎ যাতে আমরা পারহেযগারদের অনুসরণ করতে পারি, আর পারহেযগারগণও আমাদের অনুসরণ করার সুযোগ লাভ করতে পারেন। এ আয়াত থেকেও বোঝা গেল যে, আল্লাহ ওয়ালাদের অনুসরণ বা তাকলীদ করা একান্ত আবশ্যক। (৮) ﻓَﻠَﻮْﻟَﺎﻧَﻔَﺮَ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﻓِﺮْﻗَﺔٍ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔٌ ﻟِﻴَﺘَﻔَﻘَّﻬُﻮْ ﺍﻓِﻰ ﺍﻟﺪِّﻳْﻦِ ﻭَﻟِﻴُﻨْﺬِﺭُﻭْ ﺍﻗَﻮْ ﻣَﻬُﻢْ ﺍِﺫَﺍ ﺭَﺟَﻌُﻮْﺍ ﺍِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢْ ﻳَﺤْﺬَﺭُﻭْﻥَ (সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে তাদের প্রত্যেক গোত্র হতে একটি দল ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণের জন্য বের হয়ে পড়তো এবং ফিরে এসে নিজ গোত্রকে ভীতি প্রদর্শন করতো। যাতে গোত্রের অন্যান্য লোকগণ মন্দ, পাপ কার্যাবলী থেকে দুরে সরে থাকতে পারে। এ আয়াত থেকে বোঝা গেল প্রত্যেকের মুজতাহিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ কেউ ফিকহবিদ হবেন, অন্যরা কথায় ও কর্মে তাঁদের অনুসরন করবে। (৯) ﻭَﻟَﻮْﺭَﺩُّﻭْﻩُ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝِ ﻭَﺍِﻟﻰ ﺍُﻭْﻟِﻰ ﺍﻟْﺎَﻣْﺮِ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻟَﻌَﻠِﻤَﻪُ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻳَﺴْﺘَﻨْﺒِﻄُﻮْﻥُﻩَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ (এবং যদি এ ক্ষেত্রে তারা রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ও আদেশদানকারী যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি রুজু করতো তাহলে নিশ্চয় তাদের মাঝে যারা সমস্যার সমাধান বের করার যোগ্যতা রাখেন, তাঁরা এর গুঢ়তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারতেন।) এ আয়াত থেকে পরিষ্কার বোঝা গেল যে, হাদীছ, ঘটলাবলীর খবর ও কুরআনের আয়াত সমূহকে প্রথমে মুজতাহিদ আলিমদের কাছে পেশ করতে হবে। এরপর তাঁরা যে রকম বলবেন, সে ভাবে আমল করতে হবে। শ্রুত খবর থেকে কুরআন-হাদীছের স্থান অনেক উর্ধে। সুতরাং উহাকে মুজতাহিদের কাছে পেশ করা দরকার। (১০) ﻳَﻮْﻡَ ﻧَﺪْﻋُﻮْﺍ ﻛُﻞُّ ﺍُﻧَﺎﺱٍ ﺑِﺎِﻣَﺎﻣِﻬِﻢْ (যে দিন আমি প্রত্যেক দলকে নিজ নিজ ইমাম সহকারে ডাকবো….। তাফসীরে রূহুল বয়ানে’ এর ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে- ﺍَﻭْﻣُﻘَﺪَّﻡٍ ﻓِﻰ ﺍﻟﺪِّﻳْﻦِ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻳَﺎ ﺣَﻨْﻔِﻰُّ ﻳَﺎﺷَﺎﻓِﻌِﻰُّ (কিংবা ইমাম হচ্ছেন ধর্মীয় পথের দিশারী, তাই কিয়ামতের দিন লোকদিগকে ‘হে হানাফী’ হে সাফেঈ! বলে আহবান করা হবে।) এ থেকে বোঝা গেল, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার ইমামের সাথে ডাকা হবে। ডাকা হবে হে হানাফী মতাবলম্বীগণ! হে মালিকী মযহাবের অনুসারীগণ! চলো। এখন প্রশ্ন হলো, যে ইমাম মানেনি, তাকে কার সাথে ডাকা হবে? এ সম্পর্কে সুফীয়ানে কিরাম (রহমতুল্লাহে আলাইহে) বলেন যে, যার ইমাম নেই, তার ইমাম হলো শয়তান। (১১) ﻭَﺍِﺫَﺍﻗِﻴْﻞَ ﻟَﻬُﻢْ ﺍﻣﻨُﻮْﺍ ﻛَﻤَﺎ ﺍَﻣَﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﺍَﻧُﺆْﻣِﻦَ ﻛَﻤَﺎ ﺍَﻣَﻦَ ﺍﻟﺴُّﻔْﻬَﺎﺀُ (এবং যখন তাদেরকে বলা হয়- ‘তোমরা ঈমান আন, যেরূপ সত্যিকার বিশুদ্ধ চিত্ত মু’মিনগণ ঈমান এনেছেন। তখন তারা বলে- আমরা কি বোকা ও বেওকুফ লোকদের মত বিশ্বাস স্থাপন করব? বোঝা গেল যে, ঐ ধরনের ঈমানই গ্রহনযোগ্য, যে ঈমান নেক বান্দাগণ পোষণ করেন। অনুরূপ, মাযহাব ওটাই যেটার অনুসারী হচ্ছে নেক বান্দাগণ। উহাই হলো তাকলীদ। তাকলীদ সম্পর্কে মুহাদ্দিছীনের মতামত : প্রখ্যাত হাদীছ গ্রন্থ ‘দারমী’র ﺍﻻﻗﺘﺪﺍﺀ ﺑﺎﻟﻌﻠﻤﺎﺀ (আল ইকতিদাউ বিল উলামা) অধ্যায়ে আছেঃ ﺍَﺧْﺒَﺮْﻧَﺎ ﻳَﻌْﻠﻰ ﻗَﺎﻝَ ﺍَﺧْﺒَﺮْ ﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚِ ﻋَﻦْ ﻋَﻄَﺎﺀ ﺍَﻃِﻴْﻌُﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺍﻃِﻴْﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝَ ﻭَﺍُﻟِﻰ ﺍﻟْﺎَﻣْﺮِ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﺍُﻭْﻟُﻮﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻭَﺍﻟْﻔِﻘْﻪِ অর্থাৎ- আমাদেরকে ইয়া’লা বলেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবদুল মালিক বলেছেন, আবদুল মালিক‘আতা’ থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর আনুগত্য কর, রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তোমাদের মধ্যে যারা আদেশ দাতা আছেন, তাদের আনুগত্য কর।’ ‘আতা’ বলেছেন এখানে জ্ঞানী ও ফিকহাবিদগণকে আদেশ প্রদানের অধিকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাফসীরে খাযিনে ﻓَﺎﺳْﺌَﻠُﻮْﺍ ﺍَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺍِﻥْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﻟَﺎ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮْﻥَ (যদি তোমরা না জান, জ্ঞানীদের নিকট থেকে জিজ্ঞাসা করিও) আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছেঃ ﻓَﺎﺳْﺌَﻠُﻮْﺍ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴْﻦَ ﺍﻟْﻌﻠَﻤِﻴْﻦَ ﻣِﻦْ ﺍَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺍﻥِ অর্থাৎ তোমরা ঐ সকল মুমিনদের নিকট থেকে জিজ্ঞাসা কর, যারা কুরআনের জ্ঞানে পারদর্শী। তাফসীরে দুররে মানসুরে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে- অর্থাৎ ইবনে মারদাওয়াই হযরত আনাস (রহমতুল্লাহে আলাইহে) থেকে বর্ণনা করেছেন, আনাস (রহমতুল্লাহে আলাইহে)বলেছেন আমি হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, কতেক লোক নামায পড়ে, রোযা রাখে, হজ্বও জিহাদ করে; অথচ তারা মুনাফিক গণ্য হয়। আরয করা হলঃ ইয়া রাসুলাল্লাহে (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কি কারণে তাদের মধ্যে নিফাক (মুনাফিকী) এসে গেল? প্রত্যুত্তরে হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ ফরমালেন, নিজ ইমামের বিরূপ সমালোচনা করার কারণে। ইমাম কে? এ কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ ফরমান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন- ﻓَﺎﺳْﺌَﻠُﻮْﺍ ﺍَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ‏( ﺍﻻﻳﺘﻪ ) অর্থাৎ আয়াতে উল্লেখিত আহলে যিকরকে ইমাম বলা হয়। তাফসীরে সাবীতে সুরা কাহাফের ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﺭَﺑَّﻚَ ﺍِﺫَﺍ ﻧَﺴِﻴْﺖَ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিপিবদ্ধ আছেঃ অর্থাৎ চার মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবের তাকলীদ বা অনুসরণ জায়েয নয় যদিও সে মাযহাব সাহাবীদের উক্তি, সহীহ হাদীছ ও কুরআনের আয়াতের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হয়। যে এ চার মাযহাবের কোন একটির অনুসারী নয়, সে পথভ্রষ্ট এবং পথভ্রষ্টকারী। কেননা হাদীছ ও কুরআন কেবল বাহ্যিক অর্থ গ্রহণই হলো কুফরীর মূল। সংশ্লিষ্ট হাদীছ সমূহঃ মুসলিম শরীফের ১ম খন্ডে ৫৪ পৃষ্ঠায় ﺍِﻥَّ ﺍﻟﺪِّﻳْﻦَ ﻧَّﺼِﻴْﺤَﺔُ এর বর্ণনা অধ্যায়ে আছে- ﻋَﻦْ ﺗَﻤِﻴْﻢُ ﺍﻟﺪَّﺍﺭِﻯْ ﺍَﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢْ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺪِّﻳْﻦُ ﺍﻟﻨَّﺼِﻴْﺤَﺔُ ﻗُﻠْﻨَﺎ ﻟِﻤﻦْ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﻠّﻪِ ﻭَﻟِﻜِﺘَﺎﺑِﻪ ﻭَﻟِﺮَﺳُﻮْﻟِﻪ ﻭَﻟِﺎَﺋِﻤَّﺔِ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴْﻦِ ﻭَﻋَﺎﻣَّﺘِﻬِﻢْ অর্থাৎ ‘তামীম দারী’ থেকে বর্ণিত, হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ ফরমান, ধর্ম হলো কল্যাণ কামনা। আমরা (উপস্থিত সাহাবীগণ) আরয করলাম, কার কল্যাণ কামনা? তিনি ফরমালেন, আল্লাহর, তার কিতাবের, তার রসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর, মুসলমানদের, মুজতাহিদ ইমামগণের এবং সাধারণ মুসলমানদের। মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘নববীতে’ এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে। (অর্থাৎ এ হাদীছ ‘উলামায়ে দ্বীন’কেও ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উলামায়ে দ্বীন এর কল্যান কামনার অর্থ হচ্ছে তাদের বর্ণিত হাদীছসমূহ গ্রহণ করা, শরীয়ত বিধিতে তাঁদের অনুসরন করা এবং তাদের সম্পর্কে ভাল ধারণা পোষণ করা। আমাদের একান্ত কর্তব্য। ★★★★★★ কপিরাইট করা।

কপি করা হয়েছে। Yousef Ali shared Enewsbd24.com 's photo. Enewsbd24.com with Adolf Mehedy and 10 others চীনে খাওয়া হচ্ছে মানব ভ্রূণ ! তৈরি হচ্ছে মৃত বাচ্চার স্যুপ!! হিরো।কক্সবাজার।১৯ মে সম্প্রতি জানা গেছে চীনের কিছু মানুষ যৌনশক্তি বাড়ানোর জন্য শিশুদেরকে খেয়ে ফেলে। । চরম ঘৃণিত এই কাজের খবর ইন্টারনেট ও ইমেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো বিশ্বকে হতবিহবল করে দিয়েছে। ২০১৩ সালের ২৫ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সিউল টাইমস’ এ একটি ইমেইল আসে যাতে ছিল বেশ কিছু ছবি। এ ভয়াবহ, বীভৎস ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ছবিগুলোতে দেখা যায় মৃত শিশু ও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গর্ভপাত ঘটানো অপূর্ণাঙ্গ ভ্রুন বা ফিটাসের স্যুপ তৈরি করা হচ্ছে মানুষের খাবার জন্য! চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ক্যানটন বা গুয়াংডন এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জানা গেল সেখানকার পুরুষরা তাদের শারীরিকস্বাস্থ্য ও যৌন শক্তি বাড়ানোর জন্য ভেষজ শিশু স্যুপ (herbal baby soup) খেয়ে থাকে! এরকম অবস্থায় জানা গেল আরেক ঘটনা। চীনের এক দম্পতির ইতোমধ্যেই একটি কন্যাসন্তান ছিল। মহিলাটি সন্তান-সম্ভবা ছিলেন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারলেন তার দ্বিতীয় সন্তানটিও মেয়ে হতে যাচ্ছে। ততদিনে তার গর্ভস্থ সন্তানের বয়স ৫ মাস। তিনি ও তার স্বামী গর্ভপাত করানোর সিদ্ধান্ত নেন। স্বাভাবিকভাবে কোন শিশু যদি ভূমিষ্ঠ হবার আগেই মারা যায় তবে তাতে ২০০০ ইউয়ান খরচ হয়, সেখানে গর্ভপাত করাতে খরচ হয় মাত্র কয়েকশো ইউয়ান। তবে যারা মৃত শিশু বিক্রি করতে চান না, তারা প্লাসেন্টা বা অমরা বিক্রি করতে পারেন ইচ্ছা করলে। একজন স্থানীয় সাংবাদিকের মতে, এই সমস্যার উৎপত্তি মূলত হয়েছে চীনাদের মাত্রাতিরিক্ত স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে। এছাড়া অনেকের মতে, চীন সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘এক সন্তান নীতি” চালু করেছিল। আর এ হতভাগ্য শিশুগুলো এই নীতিরই নির্মম শিকার। এছাড়া চীনের অধিকাংশ পরিবার মেয়ে সন্তান নয়, ছেলে সন্তান আশা করে। গরীব পরিবারগুলো তাদের মেয়ে শিশুদের বিক্রি করে দেয় অর্থের আশায়। চরম ঘৃণিত “বেবি স্যুপ” এর উদ্ভব এই মানসিকতা থেকেই। তাইওয়ানে মৃত শিশুরা ৭০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয় গ্রিল করা ‘রুচিকর’ (?) খাবার হিসেবে! হং কং থেকে প্রকাশিত NEXT সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে শিশুদের মৃতদেহ কিংবা ভ্রূণ স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য রক্ষার নতুন উপকরণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া প্লাসেন্টা বা অমরাকে সুস্বাদু খাবার হিসেবে খাওয়া হয়। এমনকি গুয়াংডনে হাসপাতালগুলোর মাধ্যমেই অনেক সময় এসব অঙ্গ কেনাবেচা হয় ও এগুলোর চাহিদা আকাশচুম্বী। ম্যাগাজিনের অনুসন্ধানী প্রতিনিধিরা এগিয়ে যেতে থাকেন। নরমাংস ভক্ষণের নতুন এই রীতি তাদেরকে নিয়ে যায় চীনের আরেক প্রদেশ লিয়াওনিং-এ। ম্যাগাজিনটির মতে, লিয়াওনিং এর একজন তাইওয়ানীজ ব্যবসায়ী একটি ভোজসভা আয়োজন করেন। তার একজন গৃহপরিচারিকা ছিল যাকে সবাই মিস লিউ নামেই চিনতো। মিস লিউ ছিলেন লিয়াওনিং এর স্থানীয় অধিবাসী। ভোজের দিন অসাবধানতাবশত তার মানব শিশু ভক্ষণের বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়। ভোজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাইওয়ানীজ মহিলারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। মিস লিউ পরে এও বলেন, অনেক মানুষই মানবশিশু খেতে আগ্রহী, তবে চাহিদা অনেক বেশি। যাদের ক্ষমতা অনেক বেশি তারাই কেবল সবচেয়ে “ভালো জিনিস” পায়। সাধারণভাবে ছেলে শিশু ভ্রূণকে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বলে ধরা হয়। প্রতিবেদকের অনুরোধে মিস লিউ কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে প্রতিবেদককে সেই জায়গায় নিয়ে যান যেখানে মানব ভ্রূণ রান্না করা হয়। তিনি দেখলেন, একজন মহিলা একটি ছুরি দিয়ে ছেলে শিশু ভ্রূণ কেটে কুচি কুচি করছেন ও সেটি দিয়ে স্যুপ তৈরি করছেন। আর আশেপাশে মানুষকে এই বলে আশ্বস্ত করছেন যে, ভয় পাবার কিছু নেই, এটি “প্রাণীর মাংস”। অনেক চীনাদের কাছে মানব ভ্রূণ ভক্ষণ করা নাকি এক ধরণের শিল্প! ২২ মার্চ, ২০০৩। গুয়াংজি প্রদেশের বিংইয়ন পুলিশ একটি ট্রাক থেকে ২৮ টি মেয়ে শিশুকে উদ্ধার করে, যাদেরকে পাচার করা হচ্ছিলো আনহুই প্রদেশে। শিশুগুলোর মাঝে সবচেয়ে বড় বাচ্চাটির বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। তিন-চারটি শিশুকে একটি একটি করে ব্যাগে ঢোকানো হয়। উদ্ধারের সময় শিশুগুলো প্রায় মরণাপন্ন অবস্থায় ছিল। ৯ অক্টোবর, ২০০৪ এর সকালবেলা। সুজহৌ এলাকার জিউকুয়ান শহরের একজন ব্যক্তি আবর্জনা পরিষ্কারের সময় বেশ কিছু ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন শিশুদের দেহ আবিষ্কার করেন। দুটি মাথা, ছয়টি পা, চারটি হাত, দুটি ধর পাওয়া গেল। তদন্তে জানা গেল, শিশুগুলোর মাত্রই ভূমিষ্ঠ হয়েছিল, এদের বয়স হয়েছিল ১ সপ্তাহ ও রান্নার পরে খাওয়ার পর হাত-পা গুলো উচ্ছিষ্ট হিসেবে ফেলে দেয়া হয় ডাস্টবিনে।যদিও মানব ভ্রূণ খাওয়া নিষিদ্ধ করে চীনে কঠোর আইন চালু আছে, কিন্তু একইসাথে চীনের ‘এক সন্তান’ নীতি অনেক দম্পতিকে অকালে গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করে, যেগুলোর সুযোগ নিচ্ছে একদল জঘন্য মানুষ। এছাড়া মাও সেতুং এর ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ কিছু ক্ষেত্রে চরমপন্থী রূপ ধারণ করে, যার ফলে চীনের অনেকের মাঝেই নৈতিকতা ও মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান দেখানোর প্রবণতা কমে গিয়েছে। গ্লোবাল রিপোর্টারস ভিয়েনার তাই জরুরী আহবান, “নরমাংস ভক্ষণকে ‘না’ বলুন ও সেইসব শিশুদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। এটা কোন বিষয় নয় আপনি বিশ্বের কোন প্রান্তে আছেন।কিন্তু এই তথ্যটি প্রকাশ করে হয়তো সেই সব নিষ্পাপ শিশুদের বাঁচাতে পারবেন যারা হয়তো নির্মম ও জঘন্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে যাচ্ছে।“ যদিও অনেকেই এটিকে নিছক ‘গুজব’ বলে মনে করছেন। যাবতীয় তথ্যের লিঙ্ক দিয়ে দেয়া হলো। সত্য-মিথ্যা নির্ণয় পাঠকের বিবেচনা। ই-নিউজ/আরআর/ইসি ০৭.৩৮ঘ.